shono
Advertisement

অমিতাভর মৃত্যুর বদলা চাই, গুরুংয়ের বিরুদ্ধে ফুঁসছে পুলিশ

'আর গুলি খেয়ে অকালে মৃত্যু নয়। বদলা চাই, বদলা।' The post অমিতাভর মৃত্যুর বদলা চাই, গুরুংয়ের বিরুদ্ধে ফুঁসছে পুলিশ appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 08:33 AM Oct 15, 2017Updated: 03:47 AM Oct 15, 2017

সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়: “শুধুমাত্র মোমবাতি হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলানোর দিন শেষ হয়ে গিয়েছে। এবার এসে গিয়েছে বদলা নেওয়ার দিন। আর গুলি খেয়ে অকালে মৃত্যু নয়। বদলা চাই, বদলা।”

Advertisement

পাহাড়ে গুরুং বাহিনীর গুলিতে রাজ্য পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর অমিতাভ মালিকের অকাল মৃত্যুর জেরে এই স্লোগান তুলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় বইয়ে দিলেন রাজ্য পুলিশের সর্বস্তরের কর্মীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রতিবাদী ঝড়ে শামিল হয়ে কলকাতা পুলিশের কর্মীরাও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি তুললেন, “আমাদেরও এবার বদলি করে পাঠানো হোক পাহাড়ে। আমরাও এবার অস্ত্র হাতে ঘাতক বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে অপারেশন চালাব।”

[‘গুরুং মাথায় গুলি খেলে শান্তি পাবে অমিতাভ’, ডিজির কাছে আরজি বিউটির]

সাব ইন্সপেক্টর অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর পর পুলিশ বাহিনীর মনোবল যাতে ভেঙে না পড়ে তার জন্য রাজ্য পুলিশের সমস্ত সদর দপ্তরে মৃত সাব ইন্সপেক্টরকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে হবে বলে নির্দেশ পাঠিয়েছিল নবান্ন। সেই নির্দেশ মেনে শনিবার রাজ্য পুলিশের প্রতিটি সদর দপ্তরে মৃত তরুণ সাব ইন্সপেক্টর অমিতাভর ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়। পাশাপাশি রাজ্যের বেশ কিছু থানাতেও চলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পর্ব। তাতেও থেমে থাকেননি কলকাতা পুলিশের কর্মীরা। কলকাতা পুলিশের সদর দফতর খাস লালবাজারেই মৃত সাব ইন্সপেক্টর অমিতাভর ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এদিন। এমনকী, শহরের বেশ কিছু থানাতেও চলে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর্ব।

মাত্র তিন বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৪ সালে তরুণ তরতাজা সাব ইন্সপেক্টর ছিলেন অমিতাভ মালিক। তারুণ্যের কারণেই তিনি সার্ভিস রিভলভার হাতে পাহাড়ে গুরুং বাহিনীর ঝাঁকে ঝাঁকে একে ৪৭-এর গুলির সামনে এগিয়ে যেতে বিন্দুমাত্র পিছু পা হননি। রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানান, বিমল গুরুংকে হাতে পাওয়া যায়নি ঠিকই, তবে এই অপারেশন অনেকটাই সফল হয়েছে। কারণ, বিমল গুরুং ধরা না পড়লেও তাদের প্রচুর একে ৪৭ রাইফেল এবং কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা গিয়েছে। আর এই অপারেশন সফল হল শুধুমাত্র অমিতাভ মালিকের সাহসিকতার জন্য। বিমল গুরুং বাহিনীর গুলিতে মর্মান্তিক মৃত্যু হলেও তাঁর এই সাহসিকতায় তিনি শুধুমাত্র শহিদ নন, বীরেরও সম্মান পেলেন। তাঁর এই সাহসিকতাকে আজীবন স্যালুট জানাবে পুলিশ বাহিনী।

[‘অমিতাভকে চিনতাম, খুবই সাহসী ছেলে’, বললেন শোকস্তব্ধ মুখ্যমন্ত্রী]

২০১৩ সালে গার্ডেনরিচের হরিমোহন ঘোষ কলেজের সামনে গোলমাল সামাল দিতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল কলকাতা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর তাপস চৌধুরির। এর আগেও মাওবাদীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল একাধিক পুলিশ কর্মীর। কিন্তু অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় এইরকম প্রতিবাদের ঝড় ওঠেনি। এর আগে কলকাতা পুলিশের কর্মীরা বদলি হয়ে ঘোরাফেরা করতেন শহরের মধ্যেই। কাউকেই বদলি করে পাঠানো হত না জেলায়। কিন্তু কয়েক মাস আগে থেকেই শাস্তিমূলক বদলি হিসাবে কলকাতা পুলিশের কর্মীদের পাঠানো শুরু হয় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। তাতে পুলিশ কর্মীদের মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভ ছিল। কিন্তু অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর পর সেই ক্ষোভ দূর হয়ে যায়। বরং কলকাতা পুলিশের কর্মীরা ফেসবুক থেকে শুরু করে হোয়াটসঅ্যাপে দাবি তোলেন, গুরুং বিরোধী অপারেশন চালানোর জন্য আমাদেরও পাহাড়ে পাঠানো হোক। বিশেষ করে, অমিতাভ মালিকের ব্যাচের পুলিশ কর্মীরাই বেশি করে এই প্রতিবাদে শামিল হন।

The post অমিতাভর মৃত্যুর বদলা চাই, গুরুংয়ের বিরুদ্ধে ফুঁসছে পুলিশ appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার