আলিপুর আদালতে আইনজীবীর চেম্বারে বসে প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas)। এদিকে 'ডিম-থেরাপি' দিতে বাইরে দাঁড়িয়ে আইনজীবী থেকে শুরু করে আমজনতা। সকলের একটাই দাবি, বাইরে বের করে দিতে হবে অরূপকে। এদিকে পরিস্থিতি বেজায় জটিল বুঝে টুঁ শব্দটিও করছেন না অরূপ। এক বর্ষীয়ান আইনজীবী জানলার পাশে ডিম হাতে দাঁড়িয়ে! বলছেন, "একবার বাইরে আসুন, নাহলে আমাকে ঢুকতে দিন। কিছুই করব না।" কেউ আবার বলছেন, "বেরিয়ে আসুন, মেসিকে দেখতেই তো এসেছি।" সব মিলিয়ে হইচই আদালত চত্বরে। প্রায় তিনঘণ্টা পর পুলিশ এসে উদ্ধার করে অরূপকে। তিনি বেরতেই শুরু হয় ডিম বৃষ্টি।
মেসি কাণ্ডে আইনি জটে জর্জরিত হওয়ার পর থেকেই 'বেপাত্তা' ছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি কোথায় তা নিয়ে জল্পনা চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। এরই মাঝে বৃহস্পতিবার সকালে মেসি কাণ্ডে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেন অরূপ। সাড়ে তিনঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি বেরিয়ে কলকাতার বুকে এলোমেলো ঘুরতে থাকেন। মাঝে ২ বার গাড়ি থেকে নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বলেন অরূপ। তবে গন্তব্য কোথায় তা খোলসা করেননি। এরপরই দেখা যায় তিনি ঢুকে পড়েন আলিপুর আদালতে আইনজীবী গোপাল হালদারের চেম্বারে।
অরূপ গিয়েছেন জানার পরই তিনি যে ঘরে রয়েছেন তাঁর বাইরে ভিড় জমান আইনজীবীরা। জড়ো হন আদালতে কাজে আসা অনেকেই। অধিকাংশ আইনজীবীর হাতেই দেখা গিয়েছে ডিম। যদিও প্রথমে এক বর্ষীয়ান আইনজীবী ডিম হাতে অরূপকে বেরতে বলেন। এরপর দেখা যায়, একে একে সেখানে জড়ো হন অন্য আইনজীবীরা। তাঁদের সকলের একটাই দাবি, অরূপকে বের করে দিতে হবে। কোনও চোরকে আশ্রয় দেওয়া যাবে না। ক্রমশ বাড়তে থাকে উত্তেজনার পারদ। এক পর্যায়ে অরূপ যে ঘরে রয়েছেন সেখানকার আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে বিক্ষুব্ধরা নাছোড়বান্দা, অরূপকে বের না করে দিলে তাঁরা সেখান থেকে নড়বেন না। এদিকে অরূপও জানেন, বের হলেই ডিমে 'মাখামাখি' হতে হবেই। প্রায় ঘণ্টা তিনেক টানা পোড়েনের পর কোর্টে পৌঁছয় পুলিশের গাড়ি। পুলিশি ঘেরাটোপে বের হন অরূপ। গাড়িতে উঠতেই তাঁর দিকে একের পর এক উড়ে যায় ডিম।
