shono
Advertisement
Hamim Mondal Girlfriend

নেশা মডেলিং, বাইক চালানোয় তুখড় লাস্যময়ী অর্পিতা! জঙ্গি হামিমের সঙ্গে প্রেম শুধু টাকার লোভে?

এসটিএফের গোয়েন্দাদের ধারণা, শুধু ওই মন্ত্রীর ছেলেই নয়, আরও কয়েকজনকে হানিট্র্যাপ করে হামিম-অর্পিতারা টাকা আদায় ও ব্ল‍্যাকমেল করার ছক কষছিল।
Published By: Sayani SenPosted: 01:59 PM Aug 02, 2026Updated: 06:25 PM Aug 02, 2026

নিছক টাকার লোভ? নাকি এর পিছনে 'লাভ জেহাদ'? পাকিস্তানের শেহজাদ ভাট্টি জঙ্গি সংগঠনের ধৃত সদস্য হামিম মণ্ডল ও তার ঝাড়খণ্ডের বান্ধবী (Hamim Mondal Girlfriend) অর্পিতা সরকারের সম্পর্ক নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। তবে দু'জন যে ঘনিষ্ঠ ছিল ও তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত রাজ্য পুলিশের এসটিএফের গোয়েন্দারা। অর্পিতার সাহায্যে হানিট্র্যাপ করে হামিম তথা আইএসআই বা পাকিস্তানের শেহজাদ ভাট্টি জঙ্গিরা অপহরণ ও তোলাবাজিরও ছক কষেছিল। সেই সূত্রে প্রায় চার মাস ধরে হাওড়ার ওই মন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে সোশাল মিডিয়ায় যোগাযোগ করে তাঁকে হানিট্র্যাপে ফেলে অর্পিতা। তাঁর ও বাবা মন্ত্রীর কাছ থেকে মোটা টাকা তোলাবাজি শুরু করে। এমনকী, ছেলেকে টোপ দিয়ে একটি জায়গায় ডেকে হামিমদের দিয়ে অপহরণেরও ছক কষে অর্পিতা। তাঁকে পণবন্দি করেও মোটা টাকা আদায়ের ছক কষা হয়।

Advertisement

এসটিএফের গোয়েন্দাদের ধারণা, শুধু ওই মন্ত্রীর ছেলেই নয়, আরও কয়েকজনকে হানিট্র্যাপ করে হামিম-অর্পিতারা টাকা আদায় ও ব্ল‍্যাকমেল করার ছক কষছিল। সেই ক্ষেত্রে হামিম মণ্ডলের মতো আরও কতজন জঙ্গি সদস্য রাজ্যে রয়েছে, গোয়েন্দারা তার সন্ধান চালাচ্ছেন। পাক হ্যান্ডলারদের ছক ছিল, হামিম ও অর্পিতাকে দিয়ে নেটওয়ার্ক তৈরি করা, কিছু টার্গেট শনাক্ত করা, সেই টার্গেটদের গতিবিধির উপর নজর রাখা। ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বারহারোয়ায় থাকত অর্পিতা সরকার। সেখানে সে যাঁর সঙ্গে থাকত, তিনি অর্পিতার বন্ধু বলেই সে জানিয়েছে।

তবে মুর্শিদবাদের ফারাক্কা ব্লকের থেকে কিছুটা দূরে ফিডার ক্যানেলের পশ্চিমপাড়ে ঝাড়খণ্ডেই তার আসল বাড়ি। সেখানেই পড়াশোনা ও সে কলেজ থেকে স্নাতক হয় বলেও তার দাবি। ছোট থেকে মডেলিংয়ের শখ অর্পিতার। এলাকায় অত্যন্ত 'স্মার্ট' বলে পরিচিত অর্পিতার শখ ছিল বাইকেরও। বাইক চালিয়ে তাকে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে দেখা যেত।

অর্পিতারা দুই বোন। সে ছোট। তার দিদির বিয়ে হয়েছে। মা ছিলেন আইসিডিএস কর্মী। বাবা কৃষক। অর্পিতা সোশাল মিডিয়ায় খুবই সক্রিয়। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে রিল করত। সেই সূত্রেই বছর চারেক আগে ইনস্টাগ্রামে তার পরিচয় হয় হামিম মণ্ডলের সঙ্গে। হামিম নিজেকে হাওড়ার ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিত। ক্রমে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। মোবাইল নম্বরের আদানপ্রদান হওয়ার পর হোয়াটস অ্যাপে চ্যাট।

মুর্শিদাবাদে অর্পিতা এসে হামিমকে ডেকে নেয়। এরপর তারা দেখাও করে। ঘনিষ্ঠতা বাড়ে দু'জনের। প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। পুলিশ জেনেছে, ততদিনে হামিমের মগজধোলাই হয়েছে। ঘনিষ্ঠতার সময় সে অর্পিতাকে টাকার লোভ দেখিয়ে তারও মগজধোলাই করে। অর্পিতার কথা হামিম পাকিস্তানে তার হ্যান্ডলার রানা, হমার, আবিদদের হ্যান্ডেলেও জানায়। আইএসআই শেহজাদ ভাট্টি জঙ্গি সংগঠনের মাধ্যমে অর্পিতারও মগজধোলাই করা হয়, যাতে সে হানিট্র্যাপের কাজ করে। হানিট্র্যাপের কাজে তারা আরও কতজনকে কাজে লাগিয়েছে, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement