ইউনিয়নের ঝামেলায় আচমকা অটো চলাচল বন্ধ হয়ে গেল দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত রুটে। রবিবার সকাল থেকে বাঘাযতীন-রানিকুঠি রুটে অটো বন্ধের জেরে বিপাকে যাত্রীরা। ঘটনা ঘিরে রীতিমতো উত্তপ্ত এলাকা। অভিযোগ, অটোর পারমিট দেওয়া নিয়ে ইউনিয়নগুলির মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়, চলে মারধরও। একদল যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের নির্দেশ না মানলে অটো চালানো যাবে না। এসবের জেরে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন যাত্রীরা। বাঘাযতীন-রানিকুঠি দীর্ঘ রাস্তায় অটো বন্ধ হওয়ায় যাতায়াত অত্যন্ত সমস্যাজনক হয়ে উঠেছে।
বাঘাযতীন-রানিকুঠি দীর্ঘ রাস্তায় অটোই একমাত্র সহজ পরিবহণের মাধ্যম। এখানেই রবিবার সকাল থেকে বন্ধ হয়ে যায় অটো। কিন্তু কারণটা কী? তা খুব স্পষ্ট না হলেও জানা যাচ্ছে, অটো ইউনিয়নের মধ্যে ঝামেলার জেরে বন্ধ অটো চলাচল। চালকদের অভিযোগ, এদিন সকালে একদল যুবক বাইকে চড়ে অটোস্ট্যান্ডে পৌঁছে হুমকির সুরে জানান, তাঁদের নির্দেশ মেনে না চললে অটো বন্ধ করে দেওয়া হবে। কিন্তু নির্দেশটা কী? যুবকদের দাবি, স্থানীয় বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী তাঁদের পাঠিয়েছেন। নির্দিষ্ট কয়েকটি গাড়ি একমাস এই রুটে যাতায়াত করবে, তারপর পারমিট দেওয়া হবে। এক চালক অভিযোগের সুরে জানান, ‘‘ওরা এসে হঠাৎ হম্বিতম্বি করতে লাগল। আমরা প্রতিবাদ করায় একজনকে মারতে শুরু করল। আমাকেও মেরেছে। বলছে, ওদের কথা শুনে চলতে হবে।''
স্ট্যান্ডে অটোর দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি জানাচ্ছেন, তাঁকে একটি কাগজ দিয়ে যুবকরা বলেন যে বিধায়কের নির্দেশে ওই নম্বরের গাড়িগুলো চলবে এই রুটে, পরে পারমিট দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ‘‘আমি বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টা জানতে চাই। তিনি জানান যে এমন অবৈধ কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। আমাদের এখানে পারমিট ছাড়া একটি অটোও চলে না।''
উল্লেখ্য, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল পরিচালিত শ্রমিক ইউনিয়নগুলি কার্যত ভেঙে গিয়েছে। কোথাও কোথাও সিটু অর্থাৎ বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন রয়েছে। আবার বিজেপির ইউনিয়নও ঠিকমতো গড়ে ওঠেনি। ফলে চালকরাও ছত্রভঙ্গ হয়ে গিয়েছেন। কোন ছাতার তলায় সংঘবদ্ধ হবেন, তা বুঝতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে বাঘাযতীন-রানিকুঠি রুটে কারা এভাবে ঝামেলা বাঁধাল, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ তৈরি হয়েছে।
