কলকাতার বুকে গোমাংসের সুস্বাদু পদে পেটপুজোর নির্ভরযোগ্য ঠিকানা নিজামস। শুধু রোল নয়। প্রায় শতবর্ষ প্রাচীন এই রেস্তরাঁর কাঠি কাবাব রোল, তন্দুর, কাবাবের কথা শুনলেই যেন জিভে জল আসে অনেকের। অথচ জনপ্রিয় সেই রেস্তরাঁতেই বন্ধ গোমাংসের পদ। মেনু কাটছাঁটে স্বাভাবিকভাবেই মনখারাপ ভোজনরসিকদের।
কিন্তু কেন বন্ধ গোমাংসের পদ? সম্প্রতি সরকারের পালাবদলের পর পশু নিধনের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম লাগু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা খেয়াল রেখে পশুর শরীরে রোগ আছে কিনা, সেসব দেখে তবে রেস্তরাঁয় মাংস ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে কলকাতার দুই জায়গায় স্বীকৃত কসাইখানা রয়েছে। একটি ট্যাংরা এবং অপরটি ধাপার পাশে। জানা গিয়েছে, এতদিন কসাইখানায় পশুর শারীরিক পরীক্ষা করা হত না। সেভাবে বৈধ কাগজপত্রও দেখা হত না। তবে বর্তমানে পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া মাংস পাওয়া সম্ভব নয়। তার ফলে জোগানে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে তাই বন্ধ গোমাংসের পদ। রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের তরফে যদিও এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পার্ক স্ট্রিট, এসপ্ল্যানেডের আশেপাশে একাধিক রেস্তরাঁতে গোমাংস পাওয়া যায়। সেই রেস্তরাঁগুলিও রয়েছে স্ক্যানারে। যাতে কোনওভাবেই পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া গোমাংসের পদ রান্না না হয়, সেদিকে কড়া নজর প্রশাসনের। কারণ, সঠিক পরীক্ষা নিরীক্ষা না হলে নানারকম রোগ ছড়াতে পারে। প্রাণহানির আশঙ্কাও একেবারে এড়ানো যায় না। তাই সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, "সরকার নির্দেশিকা জারি করলে, অবশ্যই তা মেনে চলা উচিত।" খাদ্যপ্রেমীরাও সে বিষয়ে একমত। তাঁদের মতে, "পয়সা খরচ করে কেনা খাবার কোনওভাবেই যাতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক না হয়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখা প্রয়োজন।" সরকারি নিয়মকানুন কঠোর হলে সাধারণ মানুষের উপকার হবে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।
