shono
Advertisement

Breaking News

টাকার বিনিময়ে ক্যামেরায় ছবি তুলে নাকি 'স্বতঃস্ফূর্ত' আন্দোলন, ইভেন্ট সংস্থাই ফাঁস করল ডাক্তারদের চক্রান্ত!

গত অক্টোবরে রানি রাসমণি রোডে আন্দোলনের সময় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দিয়ে দুর্গাপুরের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ইনোভেডরসকে ভাড়া করেছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা।
Published By: Paramita PaulPosted: 09:32 AM Jan 26, 2025Updated: 09:32 AM Jan 26, 2025

অভিরূপ দাস: চোখে গ্লিসারিন দিয়ে কেঁদে, ক্যামেরায় ছবি তুলে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন! আন্দোলনের নামে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ভাড়া করে নাটকের খবর সামনে আসতেই উঠে আসছে একের পর এক সত্য। আরও বিপাকে জুনিয়র ডাক্তার ফ্রন্ট। এবার তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন সেই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার কর্ণধার অর্ণব পাল। বললেন, "টাকা পেয়েছি কাজ করেছি। ওদের সঙ্গে আমার আর কোনও সম্পর্ক নেই। ওদের ওই আন্দোলন আমি সমর্থনও করি না।"

Advertisement

প্রশ্ন একটাই, সেই টাকার অঙ্ক কত? ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার কর্ণধারের দাবি, "আমায় একবার পঞ্চাশ হাজার আরেকবার এক লক্ষ ১৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও জিএসটি বাবদ দেওয়া হয়েছিল আরও পাঁচ হাজার চারশো।" যদিও জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে যেভাবে টাকা 'ডেবিট' হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে বিস্তর গরমিল। সে গরমিলের সন্দেহ আরও উসকে দিয়েছেন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার কর্ণধার নিজেই। বলেছেন, "ওরা আমায় জোর করে নগদে টাকা নিতে বলেছিল। আমি কিন্তু নিইনি।” এতগুলো টাকা নগদে দেওয়া মানেই জালিয়াতির সম্ভাবনা প্রবল। নাগরিক সমাজ প্রশ্ন তুলছে, "তা যে দেওয়া হয়নি তার প্রমাণই বা কী?"

উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে রানি রাসমণি রোডে আন্দোলনের সময় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দিয়ে দুর্গাপুরের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ইনোভেডরসকে ভাড়া করেছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। আর জি করের মৃত তরুণী চিকিৎসকের আবেগকে কাজে লাগিয়ে কয়েক কোটি টাকা তাঁরা তুলেছিলেন আমজনতার কাছ থেকে। এরপর সহজাত আন্দোলনের নামে সেই টাকা দিয়েই শুরু করেছিল মিছিল-মিটিংয়ের শুটিং।

কলকাতায় এই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার অফিস টিপু সুলতান রোডে। বর্ষবরণ কিংবা কোনও খ্যাতনামা শিল্পীর সঙ্গীতানুষ্ঠানের ইভেন্টে জনতার উন্মাদনা- উচ্ছ্বাস দেখাতে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ভাড়া করেন আয়োজকরা। কিন্তু এখানে তো আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্ত। লক্ষ লক্ষ মানুষ নাকি বেরিয়ে এসেছিলেন? সত্যি সামনে আসতেই ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ।

বিবর্তন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, সত্যি বেশিদিন চাপা থাকে না। বোঝাই যাচ্ছে রাজ্যকে অশান্ত করতে পুরোপুরি চিত্রনাট্য সাজিয়ে আন্দোলন। চালাকি ধরা পড়ে গেল। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর আবেগকে কাজে লাগিয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলায় একটা নৈরাজ্য তৈরি করা। দুনিয়ার কাছে দেখাতে হবে বাংলা অশান্ত। তার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে দিয়ে তাদের ভাড়া নিতে হয় ড্রোন ক্যামেরা, ডিএসএলআর, হাজার হাজার এলইডি আলো, মিউজিক সিস্টেম।

মেডিক্যাল কলেজে 'ফেস্ট ইভেন্ট' অর্গানাইজ করতেন অর্ণব পাল। সেখান থেকেই জুনিয়র ডাক্তাররা খোঁজ পান এই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের সে সময়টায় শহরের নানান জায়গায় 'জঙ্গি আন্দোলন' শুরু করে ফ্রন্ট। বিশৃঙ্খলার জেরে বাতিল হতে থাকে একের পর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাগুলো পড়ে ফ্যাসাদে। হাতে কাজ নেই। সেই সুযোগটাই কাজে লাগান ফ্রন্টের সদস্যরা। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে ডেকে, তাঁরা ক্যামেরার সামনে কেঁদেকেটে, চিৎকার করে আন্দোলনের শুটিং শুরু করেন। জানা গিয়েছে, কান্না-চিৎকারের ছবি-ভিডিও মিলিয়ে ৬০ জিবির অডিও ভিস্যুয়াল বানিয়ে দিতে বলেছিলেন ফ্রন্টের সদস্যরা। নেটনাগরিকরা বলছেন, "তিন ঘণ্টার একটি সিনেমার আয়তন তো মোটে ৩ জিবি। ৬০ জিবি মানে প্রায় কুড়িটা সিনেমার সমান অডিও ভিস্যুয়াল!" সুপরিকল্পিতভাবে এইগুলোই তারা ছড়িয়ে দিতে থাকে সমাজ মাধ্যমে।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আন্দোলনের নাটকের স্টেজ, মেকআপ, আলো আঁধারির খেলা তৈরি করতে ৩৩ জন লোককে কাজে নামানো হয়। অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে একদল জুনিয়র ডাক্তার ফোর্ট উইলিয়ামের দিক থেকেও ড্রোন উড়িয়ে আরেকটা অ্যাঙ্গেলে ছবি তুলতে বলেছিলেন। কিন্তু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয় এমনটা সম্ভব নয়। ফোর্ট উইলিয়ামের আকাশে ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • চোখে গ্লিসারিন দিয়ে কেঁদে, ক্যামেরায় ছবি তুলে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন!
  • আন্দোলনের নামে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ভাড়া করে নাটকের খবর সামনে আসতেই উঠে আসছে একের পর এক সত্য।
  • আরও বিপাকে জুনিয়র ডাক্তার ফ্রন্ট।
Advertisement