ফারুক আলম, সল্টলেক: আর মাত্র কয়েক মাস পরেই নির্বাচন। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চাপানউতোর। তারই মাঝে আচমকা সক্রিয় দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। আর সক্রিয় হতে না হতেই ভোটে এবার বুথের ভিতর কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে সুর চড়ালেন তিনি। সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বৈঠক রয়েছে। তার আগে দিলীপের এহেন আর্জি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নয়া জল্পনা মাথাচাড়া দিয়েছে।
শনিবার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "আমরা বারবার দাবি করেছি যাতে বুথের ভিতর বাহিনী থাকে। ওরা দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তায়। ভোট লুটপাট হয় বুথের ভিতরে। আমাদের সামনেই এই ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। এবার যদি সত্যিই অন্যরকম কিছু হয় তাহলে মানুষ নিশ্চিন্তে ভোট দিতে যাবে। তাহলে তৃণমূলের টেকা মুশকিল।" বাহিনীর বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ করে দিলীপের বিস্ফোরক দাবি, "বাহিনী যথেষ্ট সংখ্যক আসে। পঞ্চায়েত ভোটেও পর্যাপ্ত বাহিনী এসেছিল। ভোট হচ্ছে বুথে। আর বাহিনী বাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকে আবার হাজারদুয়ারি দেখতে গিয়েছিল। আমাদের বক্তব্য নতুন ভোটার আই কার্ড ছাড়া কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। বুথে কি হচ্ছে সেটাও বাহিনী দেখবে। তাহলেই নিরপেক্ষ ভোটাধিকার সম্ভব।" সোমবারই জাতীয় নির্বাচন কমিশনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বৈঠক। তার আগে ভোটমুখী বাংলায় দিলীপের (Dilip Ghosh) এই দাবি যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যদিও শাসক শিবিরের কেউ দিলীপের দাবিকে গুরুত্ব দিতে চান না। তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, "শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন, অন্য যেকোনও জায়গার বাহিনীর নিরাপত্তায় ভোট হলেও কিছু হবে না। কারণ, জনসমর্থন সঙ্গে রয়েছে তৃণমূলের।"
বলে রাখা ভালো, গত কয়েকটি নির্বাচনে বাংলায় মোটেও আশানুরূপ ফল করতে পারেনি বিজেপি। এবারের ভোট তাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বারবার জনসভার মঞ্চ থেকে ছাব্বিশের 'প্রেস্টিজ ফাইটে'র কথা দলীয় কর্মীদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন বিজেপি নেতারা। তবে রাজনৈতিক মহলের দাবি, প্রচারই সার। আদতে ভোট প্রস্তুতিতে বেশ পিছিয়ে বঙ্গ বিজেপি।কারণ, দলের শীর্ষস্তরের নেতাদের মধ্যে ঘরোয়া কোন্দলই তারা এখনও সামাল দিতে পারেনি। আবার দক্ষ সংগঠকের অভাব তো রয়েছেই। তার উপর ভোটমুখী বাংলায় এসআইআর যেন 'ব্যুমেরাং' হয়ে দেখা দিয়েছে তাদের কাছে। সেকথা সরাসরি প্রকাশ করতে না পারলেও, গলার কাঁটার মতো বিঁধছে। এই পরিস্থিতিতে তাই কোনওক্রমে ভোট বৈতরণী পার করতে আবার গেরুয়া শিবির কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে সুর চড়াতে শুরু করেছে বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
