পুজোর পর বাড়তে পারে বাসের ভাড়া। সরকারি বেসরকারি, দূরপাল্লা-সমস্ত ধরনের বাসের ভাড়াই বাড়ানো হতে পারে। সোমবার বেসরকারি বাসমালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, ‘‘পুজোর আগে এবিষয়ে কিছু হবে না। তবে পুজোর পর বেসরকারি বাসের ভাড়াবৃদ্ধি নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। আমরা আলোচনা করব।’’ তাঁর কথায়, ‘‘বাস ভাড়া বৃদ্ধি হওয়া উচিৎ। ২০১৮ সাল থেকে একই ভাড়া চলে আসছে। কোনওদিন ভাড়া বাড়াবো না এটা হতে পারে না।'' এই প্রসঙ্গে বাম সরকারকে আক্রমণও করেন অর্জুন। বলেন, ‘‘বাম নেতারা নিজেরা গাড়িতে চড়তো। অথচ বাসভাড়া বাড়াতো না। ফলে বাস কমে যেত। আমরা ওরকম নই। সাধারণ মানুষের জন্য আরও বেশি বাস যাতে চলতে পারে তাই করা হবে।’’ একইসঙ্গে জানান, পরিষেবার মানও বাড়াতে হবে বেসরকারি বাসে।
মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে খুশি বাস মালিকরাও। সারা বাংলা বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ''মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা খুশি।''
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে শেষবার বাসের ভাড়ার তালিকা সরকারিভাবে বেড়েছিল। সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ৭টাকা। তবে কোভিডের সময় থেকে সেই ভাড়া ১০ টাকা করা হয়। তার কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি নেই। এক্ষেত্রে ভাড়া বাড়লেও নুন্যতম ভাড়া কত হয়, সেটাই দেখার। একইসঙ্গে সমস্ত টোলপ্লাজায় একটা নির্দিষ্ট রেট বেধে দিতে চাইছে রাজ্য। এবিষয়ে এদিন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ছ’দিনের সময়ও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাসমালিকদের অভিযোগ ছিল, একই জেলায় একেকরকম টোল নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে ওড়িশার মতো নিয়ম করা হবে বলে জানান অর্জুন। পাশাপাশি বড় রাস্তায় টোটো চলাচল নিয়েও ফের একবার কড়া বার্তা দেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, মূল রাস্তায় টোটো চলাচল বন্ধ করা হবে। এমনিতেই টোটো নিয়ে সমস্যা চলছে। একটা ইউনিফর্ম করতে হবে। বাসমালিকদের নাইট পার্কিং নিয়েও যে সমস্যা তাও এদিন মিটে গিয়েছে। এছাড়া যে সমস্ত বাসমালিকদের দীর্ঘদিনের ট্যাক্স বাকি, পেনাল্টি সমেত যা জমা দেওয়ার কথা, সেই পেনাল্টি কিছুটা ওয়েব করা হতে পারে বলে আশ্বাস দিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী।
অন্যদিকে সামনেই দুর্গাপুজো। স্বভাবতই মানুষের ভিড় বাড়বে রাস্তায়। এই পরিস্থিতিতে পুজোর আগেই আরও শ’তিনেক সরকারি বাস রাস্তায় নামবে বলে জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। ফলে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় অনেকটাই গতি আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে খুশি বাস মালিকরাও। সারা বাংলা বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ''মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা খুশি।'' টোলের সমস্যা দিন সাতেকের মধ্যেই মিটবে বলেও মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। একইসঙ্গে বাসভাড়া বাড়ানো নিয়েও তিনি জানিয়েছেন, পুজোর পর তা নিয়ে আলোচনা হবে। আশা করছি এবার বাড়বে। একই কথা জানান সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসেসের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে নাইট পার্কিং নিয়ে যে সমস্যা ছিল, তা মিটিয়েছেন মন্ত্রী।’’ বৈঠকে খুশি ওয়েস্টবেঙ্গল বাস-মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ নারায়ণ বসুও।
