ভোট ঘোষণার পরেই নজিরবিহীনভাবে বদল করা হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে। এমনকী একাধিক পুলিশ প্রশাসন পদেও রদবদল আনা হয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, একগুচ্ছ পুলিশ এবং আমলাকে অন্য রাজ্যে পর্যবেক্ষক করায় বিপর্যয়ের আশঙ্কাও শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। এবার সেই আশঙ্কার কথাই শোনা গেল আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। আধিকারিকদের অপসারণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে হাই কোর্টে। সেই মামলার শুনানিতে তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ''৬৩ জন পুলিশ অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরানো হয়েছে ১৬ জন আইএএস অফিসারকেও। এছাড়াও ১৩ জন পুলিশ সুপারকে সরানো হয়েছে। অনেককেই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।'' এই অবস্থায় আদালতে তাঁর আশঙ্কা, ''সমস্ত অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদি কোনও বিপর্যয় হয়। তাহলে কে সামলাবে?''
কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ''নির্বাচনের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিব যুক্ত নন। অন্য রাজ্যে জগদীশপ্রসাদ মীনাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকী মুখ্যসচিবকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।'' কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে? প্রধান বিচারপতির এজলাসে সওয়াল আইনজীবীর।
শুধু তাই নয়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাজ্যের আধিকারিকদের এসআইআরের সময় থেকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। কিন্তু সেই সময় আধিকারিকদের কাজ নিয়ে কোনও অসন্তোষ প্রকাশ কমিশন করেনি। কিন্তু ভোট ঘোষণা হতেই অপসারণ করা হচ্ছে। আইনজীবীর আরও দাবি, বাংলা ছাড়া আর কোনও রাজ্যে এমন হয়নি। এই বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এহেন মামলা নিয়ে পালটা প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।
