বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল মামলায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলবের মাঝেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গড়ল সিআইডি। সূত্রের খবর, পাঁচ সদস্যের সিট তৈরি করেছে রাজ্যে তদন্তকারী সংস্থা। ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক রয়েছেন নেতৃত্বে। এছাড়া একজন ডিএসপি এবং দুই ইনস্পেক্টর থাকছেন এই দলে। সোমবার দুপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীভবনে তলব করা হয়েছে। তিনি অসুস্থ থাকায় আজই হাজিরা দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার আগেই সিআইডি-র এই সিট গঠনেই স্পষ্ট, দ্রুত এই মামলার কিনারা করতে মরিয়া তদন্তকারীরা।
ইতিমধ্যে সিআইডির তদন্তকারীরা বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহারুল ইসলাম, কুণাল ঘোষকে নোটিস পাঠিয়েছেন। শনিবার নোটিস দিয়ে সোমবার ভবানীভবনে তলব করা হয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তিনি হাজিরা দেওয়ার আগেই অবশ্য তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সিট তৈরি করল সিআইডি।
ঠিক কোন ঘটনার তদন্তে এত তৎপরতা সিআইডির? ঘটনার সূত্রপাত সরকার গঠনের পর বিরোধী দলনেতা ঠিক করা নিয়ে। গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে হাত তুলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটের বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে। মিলিয়ে দেখা হয় ক’জন গরহাজির। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। আর এখানেই গরমিল শুরু। দুই জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের সই না মেলায় জালিয়াতি সন্দেহ হয় সচিবের। তিনি থানায় এফআইআর করেন। তদন্তভার পেয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি।
ইতিমধ্যে সিআইডির তদন্তকারীরা বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহারুল ইসলাম, কুণাল ঘোষকে নোটিস পাঠিয়েছেন। শনিবার নোটিস দিয়ে সোমবার ভবানীভবনে তলব করা হয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তিনি হাজিরা দেওয়ার আগেই অবশ্য তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সিট তৈরি করল সিআইডি।
