সই-কাণ্ডে এবার ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে সিআইডি। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় কলকাতা বন্দরের বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। সিআইডি সূত্রে খবর, বিধায়কদের সই জালিয়াতির তদন্তে ফিরহাদের বয়ান রেকর্ড করতে চান তারা। জানা গিয়েছে, বিরোধী দলনেতা কে হবেন, মমতার ডাকা দু'দিনের বৈঠকেই উপস্থিত ছিলেন ববি। ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন কালীঘাটের বৈঠকে? কারা উপস্থিত ছিলেন? কাদের অনুপস্থিতিতে সই হয়ে গিয়েছিল বিরোধী দলনেতার রেজোলিউশন কপিতে? কার নির্দেশে এমন কাণ্ড ঘটল? সমস্ত ঘটনা বিশদে জানতে এদিন তদন্তকারীরা কলকাতা পুরসভার মেয়রের চেতলার বাড়িতে পৌঁছে যায় সিআইডি টিম।
বিরোধী দলনেতার নামের সপক্ষে সই সংগ্রহের বৈঠক ঘিরেই যতকাণ্ড। মমতার ডাকা বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন বহু বিধায়কই। অথচ তাঁদের নামের পাশে রয়েছে সই। বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। সই জালিয়াতি তথ্য সামনে এনে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন ঋতব্রত-সন্দীপনরা। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে রাজ্য পুলিশের সিআইডি। জানা গিয়েছে, কালীঘাটে সই সংগ্রহের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। শুধু তাই নয়, রেজোলিউশন বুকে তৃণমূলের তরফে হাতে লেখা চিঠিতে সইও রয়েছে ফিরহাদের।
রেজোলিউশন বুকে হাতে লেখা চিঠির নিচে ফিরহাদের স্বাক্ষর।
কালীঘাটে সই সংগ্রহের বৈঠকে থাকার সুবাদে সেদিন কারা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন, আর কারা না থাকতেই তাঁদের সই হয়ে গিয়েছিল। সে সম্পর্কে সব তথ্যই ফিরহাদ হাকিমের জানার কথা। কাদের নির্দেশে এই কাজ হয়েছিল? কারা এই সই 'টুকলি' করেছিলেন, তার যাবতীয় খুঁটিনাটি জানতে ফিরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এদিন পৌঁছে যায় সিআইডি। জানা গিয়েছে, তাঁর সমস্ত বয়ান রেকর্ড করেছেন তদন্তকারীরা।
প্রসঙ্গত, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে বিরোধী দলের বিধায়কদের সই জাল করার মারাত্মক অভিযোগ ওঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। গত ১ জুন, সোমবার অভিষেককে সই কাণ্ডে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল সিআইডি। কিন্তু ৩১ মে, সোনারপুরে হেনস্থার মুখে পড়েন তৃণমূল সাংসদ। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রথমবারের হাজিরা এড়ান তিনি। ১৫ দিনের সময় চাইলেও সেই দাবি মানেনি তদন্তকারীরা। ফের অভিষেকের বাড়িতে দ্বিতীয়বার হাজিরার নোটিস যায়। আগামী ৮ জুন তাঁকে দ্বিতীয়বার হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভবানীভবনে। এই আবহেই সই জালিয়াতির জাল গোটাতে এবার তদন্তকারীদের নজরে ববি। এখন দেখার, সিআইডির সংগ্রহ করা বয়ানে জাল সই সংক্রান্ত নতুন কোনও তথ্য উঠে আসে কি না সিআইডি তদন্তকারীদের হাতে।
