কলকাতায় মিছিল শেষে 'ককরোচ'দের জঙ্গিপনা! শুক্রবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে অবস্থান বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হল জুতো- জলের বোতল। এমনকী পুলিশের গায়ে জলও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। উঠল 'বহিরাগত'দের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও। পালটা আত্মরক্ষার্থে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায়। তাতেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় 'আরশোলা'দের বিক্ষোভ। এনিয়ে কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ডোরিনা ক্রসিং। রাস্তায় পড়ে কয়েকশো জুতো, জলের বোতল। পড়ুয়াদের মিছিল থেকে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামলাতে জলকামান ছোড়ে পুলিশ। অবিকল দিল্লির কায়দায় এই খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হল সংবাদমাধ্যমকেও। এসবের জেরে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ধর্মতলা চত্বর। ব্যাহত হয় যান চলাচল।
আন্দোলনরত পড়ুয়াদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে ধর্মতলার মিছিলে আসা এক 'ককরোচ' সমর্থক সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগের সুরে বলেন, ‘‘আমি পড়ুয়া নই, একজন সাধারণ মানুষ। কিন্তু পড়ুয়াদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে এসেছিলাম। এর জন্য প্রথমেই দেশের প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ, তাঁর মন্তব্যের জন্যই আজ গোটা ভারতের ছাত্রসমাজ এক হয়েছে। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম, এই মিছিলে অ্যান্টি-ন্যাশনালরা ঢুকে পড়েছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ওরা জুতো, বোতল ছুড়ছিল। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামলায়। জানি না, শান্তিপূর্ণ একটা আন্দোলনের মধ্যে কারা ঢুকে এতটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করল।''
পূর্ব ঘোষণামতো শুক্রবার বিকেলে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এসএফআই, এআইডিএসও, আইসা-র মতো বাম ছাত্র সংগঠনগুলি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে মিছিলের ডাক দিয়েছিল। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে শিয়ালদহে জমায়েত করেন 'ককরোচ' সমর্থকরা। নিট কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত পোস্টার, ব্যানার নিয়ে ধর্মতলার পর্যন্ত মিছিল নির্বিঘ্নে হলেও ডোরিনা ক্রসিংয়ে তা পৌঁছনোর পরই ধুন্ধুমার শুরু হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল ছোড়া হয়। হয় ইটবৃষ্টিও। এরপরই এই মিছিলে 'বহিরাগত'দের ঢুকে পড়ার অভিযোগ ওঠে।
ধর্মতলায় 'ককরোচ' পার্টির মিছিলে অশান্তি, পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হল জুতো-বোতল
আন্দোলনরত পড়ুয়াদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে ধর্মতলার মিছিলে আসা এক 'ককরোচ' সমর্থক সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগের সুরে বলেন, ‘‘আমি পড়ুয়া নই, একজন সাধারণ মানুষ। কিন্তু পড়ুয়াদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে এসেছিলাম। এর জন্য প্রথমেই দেশের প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ, তাঁর মন্তব্যের জন্যই আজ গোটা ভারতের ছাত্রসমাজ এক হয়েছে। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম, এই মিছিলে অ্যান্টি-ন্যাশনালরা ঢুকে পড়েছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ওরা জুতো, বোতল ছুড়ছিল। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামলায়। জানি না, শান্তিপূর্ণ একটা আন্দোলনের মধ্যে কারা ঢুকে এতটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করল।'' এনিয়ে ককরোচ জনতা দলের দেদীপ্ত গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘ঝামেলা চাইলে আসবেন না। যাঁরা অশান্তি চাইছেন তাঁদের আন্দোলন করে আসার প্রয়োজন নেই। এই গুন্ডামি আমরা চাইছি না। আমরা আমাদের দাবি নিয়েই আন্দোলন চলবে।’’
ধর্মতলায় ধুন্ধুমারের মধ্যেই রানি রাসমনিতে অবস্থান বিক্ষোভের দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলছেন, ‘‘মৌলালি থেকে বিজেপির লোক মিছিলে ঢোকার চেষ্টা করে আটকে দেয় ছাত্ররা। পুলিশকে জুতো, ইট অথবা সাংবাদিকদের আক্রমণ সব ক্ষেত্রেই বিজেপির লোক দায়ী।’’ তিনি আবেদন জানান, রানি রাসমনিতে অবস্থান করতে চান তাঁরা। পুলিশ যথেষ্ট সংযত থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রানি রাসমনি থেকে গার্ডরেল সরিয়ে তাঁদের অবস্থান বিক্ষোভে বসার অনুমতি দিয়েছে বলে খবর।
মেট্রোর সামনে পডুয়াদের বিক্ষোভ, নিজস্ব ছবি
দিল্লিতে 'ককরোচ জনতা পার্টি' এই আন্দোলন শুরুর পরই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা ছিল, দেশের পড়ুয়াদের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে হিংসা ও অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বিদেশ থেকে। সেই আশঙ্কা যে অমূলক নয়, শুক্রবার সকালে তার হাতেগরম প্রমাণ দিল দিল্লি পুলিশ। পাকিস্তান থেকে ভারতের এই ছাত্র বিক্ষোভের আড়ালে উসকানি দেওয়ার ভয়াবহ ষড়যন্ত্র প্রকাশ্যে চলে এল। দিল্লি পুলিশ জানিয়ে দিল, যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভকে (CJP Protest) কেন্দ্র করে যে হিংসার ঘটনা ঘটছে, সেগুলির নেপথ্যে রয়েছে পাক উসকানি। প্রায় ৪০০ পাকিস্তানি সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেল দিনরাত সচেষ্ট শুধু পড়ুয়া তথা জেন জি-কে উসকানি দিতে।
