জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। জানা গিয়েছে, বাম ছাত্র সংগঠনগুলির তরফে বুধবার জিবি মিটিং ডাকা হয়। আর তা নিয়ে এবিভিপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অশান্তির সূত্রপাত। দু'পক্ষের সংঘাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। দুপক্ষের হাতাহাতিতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। রাতেই আহতদের হাসপাতালে দেখতে ছুটে যান যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। এমনকী ঘটনার প্রতিবাদে যাদবপুর থানার সামনেও বিক্ষোভ দেখায় এবিভিপি।
এবিভিপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির এক সদস্যের দাবি, বাম, অতিবাম এবং দিমাগি নকশালরা এই হামলা চালিয়েছে দলিত শিক্ষার্থীদের উপর।
এবিভিপি-র দাবি, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্র ইউনিয়ন নেই। তা সত্ত্বেও জিবি মিটিং ডাকার প্রতিবাদ জানাতে গেলে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন তাঁদের উপর চড়াও হন। ঘটনায় এবিভিপি-র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নিখিল দাস-সহ একাধিক পড়ুয়া আহত হন বলে অভিযোগ। রাতেই আহত ৪ জন এবিভিপি পড়ুয়াকে কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, প্রথম এভিপির তরফেই প্রথম হামলা চালানো হয়। এমনকী বাইরে থেকে লোকজন নিয়ে এসে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি।
এবিভিপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির এক সদস্যের দাবি, বাম, অতিবাম এবং দিমাগি নকশালরা এই হামলা চালিয়েছে দলিত শিক্ষার্থীদের উপর। ওই সদস্যের কটাক্ষ, এরাই আবার দলিত প্রেমের কথা বলে! এমনকী এবিভিপি-র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নিখিল দাসের উপর হামলা চালিয়ে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ এবিভিপির। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় একাধিকজনের বিরুদ্ধে যাদবপুর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। যদিও এবিভিপির এহেন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বাম ছাত্র সংগঠন। বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের দাবি, এই ঘটনায় এসএফআই কখনও যুক্ত নয়। এবিভিপি বাইরে থেকে লোকজন নিয়ে এসে এই হামলা ঘটিয়েছে বলে দাবি বামনেতার।
ঘটনার প্রতিবাদে আজ, বৃহস্পতিবার এবিভিপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে পৃথকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। ডিএসও-র রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, এবিভিপির এবং আরএসএসের একাংশ পতাকা ছিঁড়ে আগুন লাগিয়ে, ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালিয়েছে।'' এর প্রতিবাদ জানানো হবে। অন্যদিকে বেলা ১২টায় গোলপার্ক থেকে যাদবপুর প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে এবিভিপির তরফেও।
