চলতিবছরে শেষেই রাজ্যে হতে পারে পুরনির্বাচন। এই নির্বাচনের আগেই কলকাতা এবং হাওড়ায় ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস চায় রাজ্য সরকার। আর সেই লক্ষ্যেই হাওড়া এবং কলকাতা পুরসভা সংক্রান্ত দু'টি পৃথক সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে বিধানসভায়। যদিও এই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস কীসের ভিত্তিতে? তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। এমনকী পুরসভার ডিলিমিটেশনে সংখ্যালঘুদের স্বার্থহানি হবে? তা নিয়েও শুরু হয়েছে চর্চা। এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জবাব, ''আমরা কোনও বাউন্ডারি টেনে লোকসংখ্যা নির্ধারণ করে নতুন মানচিত্র বানাচ্ছি না। এটার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। সেই কাজটা করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।'' এরপরেও অভিযোগ এবং দাবি জানানোর সুযোগ জনগনের থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, ''হাউসে এই বিল এনে আসন সংখ্যা নির্ধারণের জন্য আজ আমরা আলোচনায় অংশ নিলাম। এর পরের কাজ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের।'' শুধু তাই নয়, দুটো সর্বদল বৈঠকও যে হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
দ্য কলকাতা কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পেশের আগে এদিন আলোচনায় অংশ নেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সজল ঘোষ। ফিরহাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ''আপনার তো আরও ছয়মাস মেয়াদ ছিল। তা শেষ হওয়ার আগেই আপনি (পড়ুন-ফিরহাদ হাকিম) পালালেন কেন? পুরসভা একটা সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি। মানুষকে পরিষেবা আপনাকে দিয়ে যেতেই হবে। কিন্তু তা না করে আপনি পালিয়ে গেলেন।'' পালটা ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও কীসের ভিত্তিতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, ''আমি নীতিগত ভাবে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতা করছি না। কিন্তু ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কীসের নীতিতে হচ্ছে?''
এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মেয়র আরও জানান, পুরো বিষয়টি আমলাদের হাতে ছেড়ে না দিয়ে, ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে না ছেড়ে দিয়ে জন প্রতিনিধিদের যুক্ত করে সর্বদল বৈঠক করে করলে আরও ভাল হত। এর পালটা জবাব দিতে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, ''হাউসে এই বিল এনে আসন সংখ্যা নির্ধারণের জন্য আজ আমরা আলোচনায় অংশ নিলাম। এর পরের কাজ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের।'' শুধু তাই নয়, দুটো সর্বদল বৈঠকও যে হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এদিন মুখ্যমন্ত্রী।
শুধু তাই নয়, ঋতব্রত শিবির অর্থাৎ 'আসল' তৃণমূলের দুই বিধায়ক অর্থাৎ ফিরহাদ হাকিম এবং জাভেদ খানকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ''বিরোধী দলের বিধায়ক জাভেদ খান আর ফিরহাদ হাকিমসাহেব যেভাবে বললেন তাতে মনে হল যেন পুরোনো মানচিত্র সরিয়ে আমরা নতুন কিছু করে দিলাম।'' কিন্তু বিষয়টি যে মোটেই তা নয়, তা এদিন স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
