ফের রাজ্যে বিনিয়োগ করবে টাটা! 'বাংলায় টাটাকে নিয়ে আসব', শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। তবে ফের হুগলির সিঙ্গুরেই টাটা গোষ্ঠী কোনও বিনিয়োগ করবে কিনা, তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, "সিঙ্গুরে যেখানে টাটা কারখানা করতে চেয়েছিল সেখানকার মাটির প্রকৃতির পরিবর্তন হয়েছে। মিশে রয়েছে রড, সিমেন্ট। ইতিমধ্যে আমার কাছে বহু প্রকল্প এসে গিয়েছে। আমি প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখার জন্য শিল্পসচিবের নেতৃত্বে টিম বানিয়ে দিয়েছি।"
টাটা-সিঙ্গুর-মমতা। এই তিন একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। বাম আমলে জমি নীতির বিরোধিতা করে জমি আন্দোলনে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর ২০১১ সালে রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান 'অনুঘটক' বলে মনে করেন রাজনীতিবিদরা। টাটা রাজ্য থেকে চলে যাওয়ার সময় রতন টাটা বলেছিলেন, "মমতা বন্দুকের ট্রিগার টিপে দিলেন।"
এরপর অনেক জল গড়িয়েছে। ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কারখানার জন্য জমি দিতে অনিচ্ছুক কৃষকরা জমি ফিরে পেয়েছেন। সর্ষের বীজ ছড়িয়ে ছিলেন মমতা। কিন্তু তারপর থেকে আর কিছু হয়নি! মাটিতে কারখানার রড, সিমেন্ট মিশে থাকায় মাটি চাষের ক্ষমতা হারিয়েছে বলে জানিয়েছিলেন অনেক কৃষক। আক্ষেপ করে অনেকেক বলেছিলেন, "কারখানাও হল না। চাষও করতে পারছি না।"
শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: কৌশিক দত্ত।
ছাব্বিশের নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পিছনে সিঙ্গুর, শিল্পের ভূমিকা আলাদা করে বলে দিতে হবে না। নির্বাচনী প্রচারে সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রচার সভা ঘিরেও উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ঘোষণা করলেন টাটাকে তিনি ফিরিয়ে আনবেনই। গত সরকারের শিল্পনীতিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "আমি আগের সরকারের মতো মিথ্যা এবং ফোটসেশনে বিশ্বাসী নই।"
