বাংলায় নতুন সরকার গঠন হয়েছে প্রায় ৩ মাস হতে চলল। এই সময়কালে কোন বিধায়কদের পারফরম্যান্স কেমন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে কে কতখানি গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন, তার ভিত্তিতেই এবার মূল্যায়ন হবে বিধানসভায়। কালই বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রী ও বিধায়কদের মার্কশিট দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, শুক্রবার অধিবেশন শুরুর আগে বিধায়কদের এক ঘণ্টার 'স্পেশাল ক্লাস' নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, বাংলার বিজেপির নির্বাচনী সংকল্প পত্র এবং বাজেটে ঘোষিত প্রকল্পগুলি কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, তার জন্য বিধায়কদের কী কী করণীয়, সে বিষয়ে যাবতীয় রূপরেখা বাতলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে ঐতিহাসিক বাজেটের সাক্ষী থেকেছে বাংলা। রাজ্যে পরিবর্তনের ঝড় তুলতে একরাশ পরিকল্পনা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্গদর্শনে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বঙ্গ-বাজেটে একাধিক প্রস্তাব পেশ করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। কিন্তু তা শুধু খাতায়-কলমে নয়, সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং আমজনতার দুয়ারে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে এবার নিজেই 'হেডমাস্টার' হয়ে বিধায়কদের পাঠ দেবেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের খবর, প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কোথায় কোথায় কী কী সমস্যা, প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রী-বিধায়কদের কী ভূমিকা নিতে হবে, সে সম্পর্কে আগাগোড়া বুঝিয়ে দিতে কাল সকাল ১০ টায় বিধানসভায় নৈশাদ আলী কক্ষে বিজেপি বিধায়কদের জরুরি বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
উল্লেখ্য, পূর্বতন সরকারের আমলে কেন্দ্রের অধিকাংশ প্রকল্পই 'লাল কার্ড' দেখেছে বাংলায়। স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় যোজনা গুলির সুবিধা থেকেও বঞ্চিত থেকেছেন বাংলার মানুষ। কিন্তু এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের ঐতিহাসিক বাজেটে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী সংকল্পপত্রে ঘোষণা অনুযায়ী, যে প্রকল্পগুলি এবার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেগুলির সুবিধা কি আদৌ পাচ্ছেন বাংলার মানুষ? তার খোঁজ নিতে হবে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়কদেরই। সূত্রের খবর, প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কোথায় কোথায় কী কী সমস্যা, প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রী-বিধায়কদের কী ভূমিকা নিতে হবে, সে সম্পর্কে আগাগোড়া বুঝিয়ে দিতে কাল সকাল ১০ টায় বিধানসভায় নৈশাদ আলী কক্ষে বিজেপি বিধায়কদের জরুরি বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনী সংকল্পপত্র অনুযায়ী, কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকারি প্রকল্প ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে আগামী ৮ মাস কী কী করবেন দলীয় বিধায়করা, সেই নিয়ে কাল ১ ঘণ্টার ক্লাসে গাইডলাইন দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলায় নতুন সরকারের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরেই একের পর এক 'মাস্টারস্ট্রোক' দিয়ে গেছেন শুভেন্দু অধিকারী। অভিভাবক হিসেবে বাংলার মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস যে কেবল কথার কথা নয়, এবার তাও বুঝিয়ে দিচ্ছেন তিনি। তাই সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নেই শেষ নয়, সেই প্রকল্পের সুবিধা থেকে যাতে কোনও মানুষ বঞ্চিত না হন, সেই দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, শুভেন্দুর নির্দেশের পরেই আমজনতার সুবিধার্থেই মানুষের দুয়ারে পৌঁছে যেতে পারেন খোদ শাসকদলের বিধায়করা।
