অর্ণব আইচ: এখনও পুলিশের হাতে আসেনি কেন্দ্রীয় ফরেনসিকের চূড়ান্ত রিপোর্ট। তাই প্রায় এক বছর হতে চলল, তবু কিনারা হল না আবেশ দাশগুপ্তর মৃত্যুরহস্যের।
গত বছরের ২৩ জুলাই বালিগঞ্জের সানি পার্কে এক বান্ধবীর সারপ্রাইজ পার্টিতে বগলে বোতলের কাচ ঢুকে মৃত্যু হয় ছাত্র আবেশ দাশগুপ্তর। ঘটনাটিকে ঘিরে সারা শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তের পর সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ও ওই পার্টিতে থাকা আবেশের ১৮ জন বন্ধু—বান্ধবী ও অন্য অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই বিশেষ ঘটনাটির জন্য তৈরি হওয়া ‘সিট’-এর সদস্যরা অনেকটাই নিশ্চিত হন যে, দুর্ঘটনার ফলেই মৃত্যু হয় আবেশের। কিন্তু আবেশের রহস্যমৃত্যুতে তার বাড়ির পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাই দুর্ঘটনার তত্বই যে চূড়ান্ত, তা বলতে রাজি নয় লালবাজার। গোয়েন্দাকর্তাদের মতে, যতক্ষণ না কেন্দ্রীয় ফরেনসিক দফতর চূড়ান্ত রিপোর্ট পাঠাচ্ছে, ততক্ষণ বলা যাবে না যে, আবেশের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে না কি তাকে খুন করা হয়েছে। যদিও গোয়েন্দাদের আশা, কেন্দ্রীয় ফরেনসিক হয়তো অল্পদিনের মধ্যেই রিপোর্ট পাঠাবে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। ততদিন তদন্ত শেষ হয়েছে তা কোনওমতেই বলা যাবে না।
[সনিকা মৃত্যু মামলায় পেশ চার্জশিট, বিক্রমের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা]
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত জানাচ্ছে, বালিগঞ্জের সানি পার্কের বাসিন্দা এক কিশোরীর জন্মদিনের পার্টি পালন করতে তার বন্ধু ও বান্ধবীরা আসে। তাদের মধ্যে ছিল আবেশ দাশগুপ্তও। এর কয়েকদিন আগে কিশোরীর ঠাকুরমা মারা যাওয়ার ফলে তারা বাইরেই জন্মদিন পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, টালিগঞ্জের একটি দোকান থেকে মদ কেনে কয়েকজন কিশোর। টালিগঞ্জের একটি ক্লাবে তাদের প্রবেশের অনুমতি মেলেনি। তাই প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের একটি ক্লাবে তারা খাওয়াদাওয়া করে। গাড়ি করে সানি পার্কে আসার পর সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউয়ের একটি মদের দোকান থেকে তারা মদের বোতল কেনে। তাদের মধ্যে আবেশ ছিল বলেও খবর পুলিশের কাছে। সানি পার্কে ফিরে আসার পর পার্কিং লট থেকে বেরিয়ে আবেশ সবুজ লনের দিকে যাওয়ার জন্য শর্টকাট করতে চায়। আড়াই ফুটের পাঁচিল টপকাতে গিয়েই পড়ে যায় সে। তার বগলের কাছে ছিল মদের বোতল। বোতলের উপর সে পড়ে। কাচের টুকরো তার বগলের তলায় ঢুকে ধমনি ছিঁড়ে দেয়। কেটে যায় কবজি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরই মৃত্যু হয় আবেশের।
তদন্তে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও। তাঁরা পুরো জায়গাটি খতিয়ে দেখে বহু নমুনাও সংগ্রহ করেন। পুলিশের দাবি, বন্ধুরা জানিয়েছিল আবেশ মদ্যপান করে ছিল।
[ব্যস্ত সময়ে শিয়ালদহে ট্রেন দুর্ঘটনা, আহত একাধিক]
The post বছর ঘুরলেও এখনও জট খুলল না আবেশ মৃত্যুরহস্যের appeared first on Sangbad Pratidin.
