আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৫ তলা অফিস ভাঙায় স্থগিতাদেশ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে বাড়িটি ভাঙার কাজ। পাশাপাশি স্থিতাবস্থাবজায় রাখার নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের। এই বাড়ি নির্মাণে যাবতীয় তথ্য তলব করেছে আদালত। সব কিছু খতিয়ে দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই মামলার আবেদনকারী লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ড।
শনিবার ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে বুলডোজার। রবিবার কলকাতা হাই কোর্টে জরুরি শুনানির আর্জি। বেনজিরভাবে শুনানি হয় বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে। সেই শুনানিতে আবেদনকারীর আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে জানান, পাঁচতলা বিল্ডিং শনিবার থেকে ভাঙা হচ্ছে। মালিককে হেয়ারিং নোটিস দেওয়া হয়নি। ৩০ জুন নোটিস দেওয়া হয়। ১৫ জুলাই হেয়ারিং টেক প্লেস। ৮ জুলাই অর্থাৎ ৭ দিন আগে আমাদের জানানো হয়। যথার্থ সময় দেওয়া হয়নি। তারপর কিছু না জানিয়ে ভাঙা শুরু হয়েছে।
বিচারপতিতে পঞ্চায়েত আইন খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেন আবেদনকারীর আইনজীবী।স্ট্যাটুয়েটারি স্কিম অনুযায়ী মালিককে আগে নোটিস দেওয়া উচিত বলে দাবি করেন তিনি। কিশোর বলেন, "শুনানির সুযোগ দিতে হয়। কী অভিযোগ জানিই না। বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি।" সওয়াল শুনে বিচারপতি অর্ডার দেখতে চান। অভিষেকের আইনজীবী জানান, "আমাকে তো দেওয়াই হয়নি। পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে নির্মাণ ভাঙা হচ্ছে।"
এরপরই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জবাবে বলেন, "৩০ জুন নোটিস পেয়েছে। কী কী প্রভিশন আছে তা সব জানানো হয়েছে। এরা প্রত্যন্ত এলাকায় থাকেন না যে নোটিসে কি আছে জানতে পারেনি। বিল্ডিংয়ের কোনও অনুমোদন ছিল না।" বিচারপতি বলেন, "কী প্রভিশন দেওয়া হয়েছিল আমার কাছে নেই। আপনারা অর্ডারটা কবে দেখাবেন? আমি মামলা রেগুলার বেঞ্চে পাঠাচ্ছি। ততদিন ভাঙা বন্ধ রাখুন।" পাশাপাশি নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য তলব করেছে আদালত।
ওই ভবন থেকে পুলিশ যে সব জিনিসপত্র নিয়ে গিয়েছে তা ফিরিয়ে দেওয়া হোক সেই আবেদন ছিল তৃণমূলের। আদালত তৃণমূলের ওই আবেদন নাকচ করে দেয়। বিচারপতি জানান, আপাতত পুলিশের আগের পদক্ষেপে কোনও হস্তক্ষেপ নয়।
উল্লেখ্য, ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় বৈধ প্ল্যান-নথি ছাড়াই আমতলার কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। শনিবার সকালেই অভিষেকের কার্যালয় ঘিরে ফেলে পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী। গার্ডরেলে ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। বেলা বাড়তেই সেখানে আনা হয় ৩টি বুলডোজার। শুরু হয় কার্যালয় ভাঙার কাজ। কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় স্থানীয়দের একাংশ। অভিষেকের কার্যালয় ভাঙা শুরু হতেই উচ্ছ্বাস শুরু হয় বিজেপি কর্মীদের। ওঠে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানও। তারপরই আইনি পথে লড়াইয়ের কথা বলেছিলেন অভিষেক। রবিবার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানানো হয়। সেই শুনানির পর নির্মাণ ভাঙাতে স্থগিতাদেশ দিল হাই কোর্ট।
