শুরু পুজোয় বেড়াতে যাওয়ার জন্য হোটেল বুকিং। আর সেই সঙ্গে মাঠে নেমে পড়েছে সাইবার জালিয়াতরাও। সামান্য অসাবধান হলেই বিপদ। কারণ, অনলাইনে বুকিং করতে গিয়ে কেউ সাইবার জালিয়াতদের ফাঁদে পা দিলে খোয়া যেতে পারে তাঁর টাকা। এরকমভাবেই নৈনিতাল যাওয়ার জন্য বুকিং করতে গিয়ে সম্প্রতি সাইবার জালিয়াতদের ফাঁদে পড়েছেন বেহালার এক বাসিন্দা। অনলাইনে নৈনিতালের হোটেল বুকিং করতে গিয়ে তাঁর ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রায় পৌনে দু'লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে অনলাইন জালিয়াতরা। এই ব্যাপারে তিনি বেহালা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশের দাবি, জালিয়াতরা বিভিন্ন নামী হোটেলের ভুয়া ওয়েবসাইট বানিয়ে আপলোড করে দেয়। সেখানে থাকে জালিয়াতদের মোবাইল নম্বর। তাই পুজোর জন্য হোটেল বুকিংয়ের আগে ওয়েবসাইটগুলি যাচাই করে তবেই টাকা পাঠানোর পরামর্শ দিচ্ছে লালবাজার। একাধিকবার পুরীতে হোটেল বুকিং করার নাম করে ফাঁদ পাতে জালিয়াতরা। এবার তারা নৈনিতালের মতো জায়গার বুকিংও বেছে নিচ্ছে।
বেহালার বাসিন্দা পরিবার নিয়ে উত্তরাখণ্ডের কুমায়ূন হিমালয়ের নৈনিতাল ও আশপাশের আরও কয়েকটি জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। একটি হোটেলের ছবি ও মান দেখে তাঁর পছন্দ হয়। নৈনিতালের লেকের ধারের ওই হোটেলের ওই ওয়েবসাইটে তিনি যোগাযোগ করেন। ওই ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা একটি নম্বরে ফোন করেন তিনি। ওই ব্যক্তি ফোন ধরে নিজেকে হোটেলের কর্মচারী বলেই পরিচয় দেয়।
সে হোটেলের গুণগান করার পর জানায়, এবার পুজোয় নৈনিতালে খুব ভিড়। এখন থেকে বুকিং না করলে হোটেলে জায়গা পাওয়া খুব মুশকিল। এখন হোটেলের কয়েকটি ঘরে জায়গা রয়েছে। ঘরগুলি বুকিংয়ের জন্য এখন তাঁকে ২৪ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। ওই ব্যক্তিকে কথার ফাঁদে ফেলে দেয় ওই সাইবার জালিয়াত। তিনি তাকে বিশ্বাস করে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড থেকে ওই 'হোটেল কর্মী'র অ্যাকাউন্টে ২৪ হাজার টাকা পাঠান। এবার তাঁকে বলা হয়, হোটেলের কাছে নথি রাখার জন্য ক্রেডিট কার্ডের নম্বরটি পাঠাতে। তিনি অনেকটা বাধ্য হয়েই সেই নম্বরটি পাঠান। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মোবাইলে একটি ওটিপি আসে। ওই সাইবার জালিয়াত হোটেলের কর্মী সেজে তাঁকে ওই ওটিপি পাঠাতে বলে। প্রথমে ওই ব্যক্তি রাজি হননি। কিন্তু তাঁকে বলা হয়, ওটিপি না পাঠালে হোটেল কর্তৃপক্ষ তাঁর রুম বুক করবে না। আবার ওই ২৪ হাজার টাকাও তিনি ফেরত পাবেন না। তিনি যেন অনেকটা বাধ্য হয়ে ওটিপি জানিয়ে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৮৮ টাকা তুলে নেওয়া হয়। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইলের সূত্র ধরে সাইবার জালিয়াতদের সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
