shono
Advertisement

ক্রমশ ডালপালা মেলছে ডেঙ্গু, এবার মশা খুঁজতে উড়বে ড্রোন

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চালু ২৪ ঘণ্টার ফিভার ক্লিনিক।
Posted: 02:36 PM Jul 28, 2023Updated: 02:40 PM Jul 28, 2023

স্টাফ রিপোর্টার: ক্রমশ ডালপালা মেলছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। এখনও পর্যন্ত প্রায় চার হাজার মানুষ আক্রান্ত। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা বাসিন্দারাও রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামল নবান্ন। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ‌্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ‌্যায় বলেন, ‘‘ডেঙ্গু বাংলাদেশ থেকে আসছে। যারা ধরা পড়েছে সবই বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্র কী করব?’’

Advertisement

উল্লেখ‌্য, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপে গত কয়েক সপ্তাহে শতাধিক মৃত্যু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই এদিন মুখ‌্যমন্ত্রী এই মন্তব‌্য করেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গু মাথাচাড়া দিয়েছে। বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গু সংক্রমণ যাতে বল্গাহীন না হয় সেই লক্ষ্যে এদিন প্রশাসনিক স্তরে দু’দফায় বৈঠক হয়। প্রথমে রাজ্যের সব মেডিক‌্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ‌্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। পরে সব জেলার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ‌্যসচিব এইচ কে দ্বিবেদী, স্বাস্থ‌্যসচিব ও স্বাস্থ‌্যদপ্তরের আধিকারিকরা। বৈঠকে ঠিক হয়েছে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে ছুটির দিন-সহ রোজ পৃথক ফিভার ক্লিনিক চালু থাকবে।

[আরও পড়ুন: চোখের চিকিৎসায় অভিষেকের বিদেশযাত্রা নিয়ে ‘কুৎসা’ বিরোধীদের, কড়া জবাব দিল তৃণমূল]

স্বাস্থ‌্যভবন সূত্রে খবর, রাজ্যের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণে শীর্ষে নদিয়া। এর পরেই রয়েছে দুই ২৪ পরগনা। রাজ্যে আক্রান্তের সংখ‌্যা চার হাজারের কাছাকাছি। মুখ‌্যসচিবের সঙ্গে জেলা আধিকারিকদের বৈঠকের পর বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। যাতে বেশ কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। স্বাস্থ‌্য দপ্তরের পর্যবেক্ষণ, শহরের তুলনায় গ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত বেশি। তাই প্রায় ৯ হাজার ডাক্তার ও প‌্যারামেডিক‌্যাল কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ১৬০টি সরকারি স্বাস্থ‌্যকেন্দ্রে নিখরচায় রক্ত পরীক্ষা করা হবে। পুর এলাকাগুলিতে নজরদারির জন‌্য ড্রোন ব‌্যবহার করা হবে।

১২৯টি পুর এলাকায় ১২ জুন থেকে বাড়ি বাড়ি মশার লার্ভা সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজ চলবে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে লার্ভা নিধনের জন‌্য ৬২৪টি র‌্যাপিড রেসপন্স টিম তৈরি রাখা হয়েছে। যে সব এলাকায় সংক্রমণ বাড়ছে সেখানে ওষুধ মিশ্রিত মশারি বিলি হবে। এখনই রাজ্যের হাতে প্রায় ১ লক্ষ মশারি রয়েছে। রাজ্যের ৩ হাজার ১৯৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বছরভর লার্ভা নিধনের কাজ চলবে। সব মিলিয়ে ১ লক্ষ ৩২ হাজার ২২০ জনকে ডেঙ্গু নিধনের কাজে নিয়োগ করা হয়েছে।

নবান্ন সূত্রে খবর, এদিনের বৈঠকে মুখ‌্যসচিব প্রতিটি জেলা ধরে ধরে জেনে নেন কোনও সমস‌্যা রয়েছে কি না? মুখ‌্যসচিবের নির্দেশ, ব্লক স্তর পর্যন্ত সব হাসপাতালে যথেষ্ট পরিমাণে স‌্যালাইন মজুত রাখতে হবে। জেলা হাসপাতালে রাখতে হবে প্রয়োজনীয় প্লেটলেট। তবে একই সঙ্গে নির্দেশ ১০ হাজারের নিচে না নামলে কোনওভাবেই প্লেটলেট যাতে না দেওয়া হয়। হঠাৎ কোনও এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ যদি বাড়ে তবে হাসপাতালগুলিকে যথেষ্ট পরিমাণে শয‌্যা প্রস্তুত রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞরা হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখবেন আক্রান্তদের চিকিৎসা কেমন হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা যেমন রেল, প্রতিরক্ষা ভবনে মশার লার্ভা যাতে না জন্মায় তার জন‌্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। গ্রামে কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার রক্ত পরীক্ষার ব‌্যবস্থা করবেন। সব জেলাশাসককে নিয়ম করে ডেঙ্গু রিভিউ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এদিনের বৈঠকে।

[আরও পড়ুন: পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনের আগে জয়ী ৪ বিরোধী প্রার্থীকে কলকাতা থেকে অপহরণ! কাঠগড়ায় তৃণমূল]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement