বাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হল প্রীবণ দম্পতির ঝুলন্ত দেহ। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে হরিদেবপুর এলাকায়। পাশাপাশি, ঘরের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোটও। সেখানে দম্পতি তাঁদের দেহ তাঁদের 'পালিত পুত্রে'র হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু কী কারণে তাঁরা আত্মঘাতী হলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, ওই দম্পতি নিঃসন্তান হলেও এলাকারই এক বাসিন্দা যুবক তাঁদের দেখাশোনা করতেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, হরিদেবপুরের মহাত্মা গান্ধী রোডের একটি দোতলা বাড়ির একতলায় ভাড়া থাকতেন বৃদ্ধ দম্পতি বিকাশ দাস (৭২) এবং বাসন্তী দাস (৬৩)। বিকাশ জমি বাড়ির দালালি করতেন। কিন্তু গত কয়েক বছর আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। ভালো করে চলাফেরা করতে পারতেন না তিনি। বৃদ্ধা স্ত্রী তাঁর দেখাশোনা করতে করতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। রবিবার সকাল থেকে তাঁদের বাড়ির দরজা বন্ধ ছিল। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত কোনও সাড়াশব্দ না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা দরজার লক ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। দেখেন, বারান্দার সিলিংয়ে গলায় শাড়ির ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন বাসন্তী। অন্যদিকে, ঘরের ভিতরে সিলিং ফ্যান থেকে আংশিকভাবে ঝুলছেন বিকাশ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হরিদেবপুর থানার পুলিশ। দু’জনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অসুস্থতার কারণে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে দম্পতি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। যদিও সবদিক খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। সুইসাইড নোটের লেখাটিও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
