মার্কো ভ্যান বাস্তেনের ফুটবল জীবন থামিয়েছিল গোড়ালির চোট। এবার সেই গোড়ালি প্রতিস্থাপন কলকাতায়। চিকিৎসকদের দাবি, এটাই পূর্ব ভারতে প্রথম অ্যাঙ্কেল রিপ্লেসমেন্ট। যা সম্ভব হল পশ্চিমবঙ্গে। জয়েন্ট অ্যান্ড বোন কেয়ার হাসপাতালে।
ভয়ংকর পথ দুর্ঘটনায় গোড়ালির উপরের হাড় ভেঙে দু'টুকরো হয়ে গিয়েছিল বোলপুরের বাসিন্দা বছর তেত্রিশের শাশ্বত কুণ্ডুর। বছর তেরো আগের কথা। বেসরকারি হাসপাতালের ডিরেক্টর ডা. জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় চৌধুরি জানিয়েছেন, সাইকেল চালাতে গিয়ে পথ দুর্ঘটনায় মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন শাশ্বতবাবু। বা পায়ের সেই চোটের কারণে সে সময় একটা অস্ত্রোপচার হয়েছিল। কিন্তু তাতে উপশম হয়নি। পোস্ট ট্রমাটিক আর্থারাইটিস দেখা গিয়েছিল। ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে গোড়ালির জয়েন্ট। হাঁটাচলার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন শাশ্বত। যার প্রভাব পড়েছিল দৈনন্দিন জীবনে। অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৌরশেখর সাহা, ডা. জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় চৌধুরির নেতৃত্বে পূর্ব ভারতের প্রথম অ্যাঙ্কেল রিপ্লেসমেন্ট নতুন জীবন দিল শাশ্বতকে।
ঘণ্টাখানেকের এই জটিল অস্ত্রোপচারের গোড়ালির উপরে লাগানো হয়েছে একটি কৃত্রিম অঙ্গ। যা তৈরি হয়েছে কোবাল্ট ক্রোমিয়াম আর টাইটানিয়াম অ্যালয় দিয়ে। দু'টি ধাতুই অত্যন্ত শক্ত। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত বিশ বছর কেটে যাবে হেসেখেলে। এই মুহূর্তে শাশ্বতবাবুকে ব্যায়াম করতে বলা হয়েছে নিয়মিত।
উল্লেখ্য, বছর চল্লিশ আগে এমনই চোট লেগেছিল আর্ন্তজাতিক ফুটবলার মার্কো ভ্যান বাস্তেনের। কিন্তু সে সময় অ্যাঙ্কেল প্রতিস্থাপন শব্দটি অজানা ছিল চিকিৎসা বিজ্ঞানে। যে কারণে মাত্র আঠাশ বছর বয়সে ফুটবল কেরিয়ার শেষ হয়ে যায় নেদারল্যান্ড তারকার। ভারতে মাত্র এক বছর আগে শুরু হয়েছে অ্যাঙ্কেল প্রতিস্থাপন। আর পূর্ব ভারতে প্রথম হল হল শাশ্বত কুণ্ডুর বাঁ পায়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ইমপ্লান্ট তৈরি হয় না এই দেশে। মূলত জার্মানিতে তৈরি হয় এই অ্যাঙ্কেল প্রতিস্থাপনের উপাদান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পুরনো চোটের জেরে গোড়ালির জয়েন্টের কার্টিলেজ সম্পূর্ণ ক্ষয়ে গিয়ে তৈরি হয়েছিল পোস্ট ট্রমাটিক আর্থারাইটিস। প্রতিস্থাপনটা জরুরি ছিল।
