shono
Advertisement

Breaking News

Kolkata Hotel Fire

ঘুপচি ঘর, সংকীর্ণ পথ, নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও! নিউ মার্কেট অগ্নিকাণ্ডে ৯ মৃত্যুতে সামনে ছত্রে ছত্রে অব্যবস্থা

নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলের আগুনে চলে গেল ৯টি তরতাজা প্রাণ। জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অনেকে। ওই 'মৃত্যুপুরী'তে ঢুকে দেখা গেল ছত্রে ছত্রে অব্যবস্থা।
Published By: Suhrid DasPosted: 09:59 AM Aug 19, 2026Updated: 11:18 AM Aug 19, 2026

নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলের (Kolkata Hotel Fire) আগুনে চলে গেল ৯টি তরতাজা প্রাণ। জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অনেকে। ওই 'মৃত্যুপুরী'তে ঢুকে দেখা গেল ছত্রে ছত্রে অব্যবস্থা। পাঁচতলা ওই বহুতলের প্রত্যেকটি তলাতেই কার্যত ভয়াবহ পরিস্থিতি। প্রশাসন ও পুরসভার কোন কোন নিয়ম মানা হয়েছে? সেই নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। সব থেকে বড় কথা ওই বহুতলে কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না! ঘটনার খবর পেয়ে আজ, বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। 

Advertisement

অভিযোগ, ওই বহুতলে একাধিক হোটেল চলছিল। প্রত্যেকটি তলাতেই এক একটি হোটেল রয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ওই বাড়িতে সেই অর্থে কোনও বড় ঘর নেই। ঘুপচি ঘুপচি পায়রার খোপের মতো ঘরেই মানুষজন এসে থাকতেন। প্রত্যেকটি তলাতেই চলত একাধিক এসি। কোনও নিয়মকানুন মানার বালাই ছিল না বলেই অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে এইসব বেনিয়ম হয়েছে। টাকার বিনিয়মে ওই বাড়ির ভিতরে এভাবে ঘর উঠেছে। কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যানের কোনও নিয়মই মানা হয়নি! 

আবাসিকরা ঘুমাচ্ছিলেন। আগুন লেগেছে বুঝতে পেরে আতঙ্ক ছড়ায়। প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু হলেও অনেকেই বাইরে বেরনোর বিকল্প রাস্তাও খুঁজে পাননি বলে অভিযোগ।

মধ্যরাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই বহুতলে আগুন লাগে। নিমেষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জায়গায়। হোটেলের ভিতর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। সেসময় আবাসিকরা ঘুমাচ্ছিলেন। আগুন লেগেছে বুঝতে পেরে আতঙ্ক ছড়ায়। প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু হলেও অনেকেই বাইরে বেরনোর বিকল্প রাস্তাও খুঁজে পাননি বলে অভিযোগ। আগুন লাগার পর স্থানীয়রাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে দমকলকর্মীরা গিয়ে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ করে। ততক্ষণে চলে গিয়েছে একাধিক প্রাণ।  

স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই এলাকায় একাধিক হোটেল রয়েছে। সেইসব হোটেলে সাধারণত ভিনরাজ্য, বিশেষত বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য মানুষজন এসে থাকতেন। এই হোটেলেও বাংলাদেশ থেকে আসা বহু মানুষ উঠেছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই এলাকায় একাধিক হোটেল রয়েছে। সেইসব হোটেলে সাধারণত ভিনরাজ্য, বিশেষত বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য মানুষজন এসে থাকতেন। এই হোটেলেও বাংলাদেশ থেকে আসা বহু মানুষ উঠেছিলেন। রাতের আগুনে ৮ বাংলাদেশি এখনও মারা গিয়েছেন বলে খবর। আবাসিকরা রাতে ঘুমাচ্ছিলেন। আগুন লাগার পর তাঁরা বেরোতে গিয়ে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ওই বহুতলে ঢোকা-বেরনোর জন্য একটাই মাত্র পথ, সেটিও যথেষ্ঠ সংকীর্ণ। আগুন লাগার পর হোটের কর্তৃপক্ষের কারও দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ।

আগুনের তেজ খুব একটা বেশি ছিল না বলেই খবর। তবে হোটেলের ভিতর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। আবাসিকদের অনেকে বাঁচার জন্য শৌচালয়েও আশ্রয় নিয়েছিলেন! একজন প্রাণ বাঁচাতে উপর থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। রাজ্যের দমকলমন্ত্রী বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিশাপ বহন করতে হচ্ছে। কীভাবে এখানে হোটেল করার অনুমতি দিয়েছে, কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স হল? সেই তদন্ত হবে। কমিটি গঠন করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement