যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) অশান্তির নেপথ্যে কারা? দেশবিরোধী শক্তির ইন্ধনে তুলকালাম? খতিয়ে দেখতে প্রথম বৈঠকে যাদবপুরের তদন্ত কমিশন। বৃহস্পতিবার মূল ক্যাম্পাসের বদলে সল্টলেকের ক্য়াম্পাসে বৈঠক হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান হিসাবে বৈঠকে ছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া ছিলেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি-র ডিরেক্টর অধ্যাপক সৌমেন্দু চট্টোপাধ্যায় এবং উপস্থাপক কর্মকর্তা হিসাবে রয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রো অ্যানালিস্ট সুমন্ত জানা। বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের একাংশের দাবি ছিল তদন্ত কমিশনে ছাত্র প্রতিনিধি রাখতে হবে। যদিও সেই দাবি মান্যতা এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
বৈঠক শুরুর আগে কমিশনের চেয়ারম্যান প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, "আমাদের কাছে আসা অভিযোগগুলি কীভাবে নেওয়া হবে, তা আলোচনার মাধ্যমে স্থির করা হবে। সেগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। জমা পড়া অভিযোগ, পেপার কাটিং, ক্লিপিংস খতিয়ে দেখা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে।" যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওই ঘটনার তদন্ত হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, এদিনই কলকাতা হাই কোর্টে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাধে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মামলাকারীর আইনজীবীর দাবি, বহিরাগতদের তাণ্ডবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাই তা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান মামলাকারী। আগামী সোমবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার জরুরি শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা।
উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেটসুর জিবি মিটিং হওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পোড়ানো হয় পতাকা। রাতে তাণ্ডব চলে বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই ঘটনার রেশ থাকে পরের দিন পর্যন্ত। দুই পক্ষের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীনও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের মাঝে ভেঙে যায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম। তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে ওঠে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্য়ালয়ের তরফে তিন সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। তাঁরাই এদিন বৈঠকে বসেন।
