shono
Advertisement
Kalicharan Banerjee

৩ দিনের বেশি পুলিশ হেফাজতে, কলকাতা পুরসভা থেকে সাসপেন্ড ফিরহাদ 'ঘনিষ্ঠ' কালীচরণ

ফের কাজে ফিরতে কী করতে হবে কালীচরণকে?
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 12:31 PM Jul 01, 2026Updated: 01:36 PM Jul 01, 2026

তারাতলা কাণ্ডে দিন কয়েক আগেই কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalicharan Banerjee) গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন তিনি। ৭২ ঘণ্টার বেশি পুলিশ হেফাজতে থাকায় নিয়ম মেনে কলকাতা পুরসভা থেকে সাসপেন্ড করা হল কালীচরণকে। এরপর আইনি পথে হেঁটে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারলে তবেই ফের কাজে যোগ দিতে পারবেন তিনি। 

Advertisement

তারাতলা বিপর্যয়ের পর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে শোনা গিয়েছিল কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। বিধানসভায় নথি তুলে ধরে ফিরহাদ হাকিমকে আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তাঁর মুখে শোনা যায় কালী নামে এক ব্যক্তির কথা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশেই পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছিল কালীকে। আর কালী জানে না এমন কোনও বিল্ডিং কলকাতায় নেই। সব বিল্ডিংয়ের অনুমোদন হত ওর কথায়।” এরপরই গ্রেপ্তার করা হয় কালীচরণকে। গত রবিবার ভরদুপুরে আচমকাই ধৃত কালীচরণকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর হাওড়ার বাড়িতে পৌঁছে যান সিটের তদন্তকারীরা। তাঁদের অনুমান ছিল, কালীচরণের ফ্ল্যাটে বিল্ডিংয়ের প্ল্যান সংক্রান্ত কোনও নথি পাওয়া গেলেও যেতে পারে। যা তদন্তের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে।

কালীচরণকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হতে হয়। কী পদ্ধতিতে প্ল‍্যানের অনুমোদন দেওয়া হত? অনুমোদন দেওয়ার পর নজরদারির কি ব‍্যবস্থা থাকত আদৌ? মোটা টাকা নিয়ে ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যান তৈরিতে আর কারা জড়িত? কালীর সুপারিশে কতগুলি প্ল্যানে অনুমোদন দিয়েছিল পুরসভা? প্ল‍্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে যে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এসেছে, এই টাকা সরাসরি কি কালী নিতেন? এহেন একাধিক প্রশ্ন করা হলেও কালী মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছেন। এসবের মাঝেই এবার সাসপেন্ড হলেন তিনি। 

কিন্তু কে এই কালী? জানা গিয়েছে, ২০০৩ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে দ্বিতীয় হন কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। যোগ দেন ভূমি রাজস্ব দপ্তরে। এরপর ২০০৬ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিস পরীক্ষায় বসেন। তাতে প্রথম হয়ে ২০০৮ সালে রাজ্য পুলিশে যোগ দেন। কিন্তু প্রশিক্ষণের সময় তা ছেড়ে দেন বিশেষ কারণে। ওই বছরই ফের ভূমি রাজস্ব দপ্তরে ফিরে যান তিনি। সূত্রের খবর, ২০১০ সাল থেকে পুরসভায় কাজ শুরু কালীচরণের। সেই সময় মেয়র পারিষদ ছিলেন ফিরহাদ। কালীচরণ ছিলেন ফিরহাদের আপ্ত সহায়ক। ২০১৮ সালে কলকাতা পুরনিগমের মেয়র হন ফিরহাদ হাকিম। শোনা যায়, ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশেই সেই সময় ফিরহাদ হাকিম কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের ওএসডি পদে নিয়ে আসেন। তারপর সময় যত এগিয়েছে উত্তরোত্তর বেড়েছে কালীর দাপট। 

পুরসভার কর্মী সূত্রে খবর, সেখানে যাবতীয় কাজ চলত কালীচরণের অঙ্গুলিহেলনে। তাঁর নির্দেশ ছাড়া একটি পাতাও নড়ত না। কেউ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতেন না। তবে কালীচরণ এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস ছিল না কারও। কারণ, মেয়রের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলেও টপকাতে হবে সেই কালীচরণকে। তাঁর অনুমতি ছাড়া ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে দেখা করতে পারতেন না কেউ।  

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement