অপেক্ষার অবসান। কলকাতাবাসীর যাতায়াত এবার হতে চলেছে আরও সহজ। আগামী সপ্তাহে শুরু হতে চলেছে চিংড়িঘাটায় মেট্রোর লাইন জোড়ার কাজ। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের জটে আটকে ছিল এই কাজ। আদালতে মামলাও চলছিল। ৩৬৬ মিটার মেট্রোর লাইন জুড়তে যান নিয়ন্ত্রণে রাজি হয়েছে কলকাতা পুলিশ। ভোটের পর মে মাসের ২টি উইকএন্ডে যান নিয়ন্ত্রণ করতে সম্মত হয়েছিল কলকাতা পুলিশ। ভোট শেষ হয়েছে। ফলে সেই কাজে এবার হাত দেওয়া হবে। ১৫ তারিখ থেকে চিংড়িঘাটায় কাজ শুরু হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দল ক্ষমতায় আসার পর শহরের মেট্রো ও রেল প্রকল্পে গতি আসতে পারে বলে আশাবাদী আধিকারিকরা।
বহুদিন ধরে আটকে থাকা বা ধীরগতির প্রকল্পগুলির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে, যেগুলো এখন দ্রুত শেষ করা বা নতুন করে শুরু করা সম্ভব। আগের সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবই কলকাতায় মেট্রো সম্প্রসারণের প্রধান বাধা ছিল বলে জানান রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বিশেষ করে অরেঞ্জ লাইনের চিংড়িঘাটা অংশে জমি ও কাজের সমস্যা এবার মিটতে পারে। ১৫-১৮ মে ও ২২-২৪ মে যান নিয়ন্ত্রণ করে চিংড়িঘাটায় চলবে লাইন জোড়ার কাজ। বাইপাসে যান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, এ কথা আগেই জানানো হয়েছিল। তবে পুলিশের তরফ থেকে পাওয়া যাচ্ছিল না যান নিয়ন্ত্রণের অনুমতি।
বাইপাস এমন একটা রাস্তা, যেখানে সারা বছর যানবাহনের চাপ থাকে। সেই কারণেই এই রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলে জানিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। তবে হাইককোর্টে সরকারকে ভর্ৎসনার পর কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। অবশেষে যান নিয়ন্ত্রণে সম্মত হয়েছে কলকাতা পুলিশ। আর মেট্রোও জানিয়েছে, এবার কাজ দ্রুত এগোবে। আর কোনও সমস্যা নেই।
এই অংশটুকু জুড়ে গেলে নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট জুড়তে আর সময় লাগবে না। এছাড়া এবার পার্পল লাইন (জোকা-এসপ্ল্যানেড) নিয়েও আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। এসপ্ল্যানেডের কাছে বি.সি. রায় মার্কেটে ব্যবসায়ীরা জায়গা ছাড়তে না চাওয়ায় কাজ আটকে ছিল। এখন সমস্যার সমাধান হলে এই লাইন বেহালার মানুষের জন্য বড় সুবিধা হবে। বর্তমানে জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত এই লাইন চালু। ইয়েলো লাইন (নোয়াপাড়া-বারাসাত) প্রকল্পও নতুন করে গতি পেতে পারে। মাইকেল নগর পর্যন্ত কাজ এগোচ্ছে, আর বারাসত পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে। আরও কয়েকটি প্রকল্প, যেগুলো অর্থাভাবে আটকে ছিল, সেগুলিও এখন এগোতে পারে।
