বাবা ও ছেলেকে অপহরণ করে দশ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ছক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থেকে এক ব্যবসায়ী ও তাঁর নাবালক ছেলেকে অপহরণ করা হয়! দক্ষিণ কলকাতার মনোহরপুকুর রোডের একটি বাড়িতে আটকে রেখে প্রবোল মারধর করে অপহরণকারীরা, এমনই অভিযোগ। শেষপর্যন্ত নরেন্দ্রপুর থানা ও রবীন্দ্র সরোবর থানার যৌথ তল্লাশিতে উদ্ধার হন বাবা ও ছেলে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার তিন অপহরণকারী।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত তিনজনের নাম বিষ্ণু দাস, সানি গুপ্তা ও সুশান্ত নাথ। তারা মনোহরপুকুর রোডেরই বাসিন্দা। রবিবার রাতে ১৭ বছরের ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ব্যবসায়ী নীতিশ মাকাল। নরেন্দ্রপুরের খাড়কি গ্রামের রাস্তা থেকে একটি গাড়িতে করে তাঁদের দুজনকেই অপহরণ করা হয়। গভীর রাতে ব্যবসায়ীর পরিবারকে ফোন করে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। না দিলে খুনের হুমকিও দেয় অপহরণকারীরা। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীর ওপর চলে অত্যাচার! নাবালক ছেলে প্রতিবাদ করে উঠলে তাকেও ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সোমবার নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ জানান পরিবারের লোকেরা। পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
মোবাইলের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে যে, মনোহরপুকুর রোডে রয়েছে অপহরণকারীদের টাওয়ার। জেলা পুলিশ দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর থানাকে বিষয়টি জানায়। রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ আধিকারিকরা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, কোন বাড়িতে দুজন আটকে রাখা হয়েছে। সেই মতো বাড়িটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। এদিন বাবা ও ছেলে দুজনকেই পুলিশ উদ্ধার করে পালানোর আগে তিন অপহরণকারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের দাবি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তারা টাকা পেত। সেই কারণেই অপহরণ। পুলিশের ধারণা আরও কয়েকজন এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তাদের সন্ধান চলছে। অপহরণের কারণও খতিয়ে রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
