রাজ্য ও রাষ্ট্রপতি সংঘাতের মধ্যে মুখ খুললেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ। মনে করালেন ২০১৭ সালে তিনিই প্রথম তৎকালীন ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেই সময় 'পাত্তা' দেয়নি বিজেপি। আজ, সেই বিজেপি রাষ্ট্রপতির পদ ব্যবহার করে 'নিজেদের সুর চড়াচ্ছে বলে অভিযোগ কুণালের। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি মুর্মু ও তাঁর পদকে সম্মান জানিয়ে, তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করেছেন কুণাল।
রবিবার সকালে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। সেখানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উদ্দেশ্যে লেখেন, 'আপনার জ্ঞান, জীবন সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আমি জানি। কিন্তু গতকাল দুর্ভাগ্যবশত আপনি বিজেপির রাজনৈতিক স্বার্থে আপনার চেয়ারের অপব্যবহার করলেন। এটা রাষ্ট্রপতির চেয়ারের প্রতি অবিচার।' তিনি অনুরোধ করে লেখেন, 'ম্যাডাম, রাজনীতির অংশ হবেন না। বিজেপি নানাভাবে বাংলাকে অপমান করার চেষ্টা করেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন আপনার চেয়ারকে 'বিজেপির কণ্ঠস্বর' করার চেষ্টা করছে। ম্যাডাম, দয়া করে সঠিক তথ্য জানুন। আপনি আমাদের রাষ্ট্রপতি। ভারতের রাষ্ট্রপতি। বিজেপির মুখপাত্র নন।'
তাছাড়া কুণাল তুলে ধরেছেন, ২০১৭ সালে তিনি যখন রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন সেই সময় দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করার কথা তিনিই প্রথম বলেছিলেন। সেই সংক্রান্ত চিঠি ও জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যমের করা একটি খবরে কাটআউটও তুলে ধরেছেন। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা চিঠিতে তিনি বর্তমান রাষ্ট্রপতি দৌপদী মুর্মুকে ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করার কথা লিখেছেন।
উল্লেখ্য, শনিবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে আদিবাসী সম্মেলনে আমন্ত্রিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বিধাননগরের বদলে বাগডোগরা বিমানবন্দরের অদূরে গোঁসাইপুরে সেই সভার স্থল নির্ধারিত হয়। সেখানকার অনুষ্ঠান সেরে ফেরার পথে বিধাননগরে আদিবাসীদের সমাবেশে যোগ দেন। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, "ওখানে (বিধাননগরে) অনুষ্ঠান হলে ভালো হতো। ওখানে অনেক জায়গা, অনেক মানুষ আসতে পারতেন। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন কেন জানি না, এখানে সভার অনুমতি দেয়নি। এমন জায়গায় আজকের অনুষ্ঠান হচ্ছে, এখানে মানুষের আসা কঠিন। আমিও বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা বোধহয় রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি।” এই মন্তব্যের পরই দেশের রাজনীতিতে ঝড় ওঠে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগে। সেই সংঘাতে এবার মুখ খুললেন কুণাল ঘোষ।
