shono
Advertisement
Left Front

অঙ্ক নয়, পুরভোটে আসন বন্টনে এবার নয়া ফর্মুলা বামফ্রন্টের

কোন ওয়ার্ডে কোন দলের সাংগঠনিক শক্তি বেশি, সেই হিসাবেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাব উঠতে পারে।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 11:20 AM Aug 20, 2026Updated: 02:16 PM Aug 20, 2026

কলকাতা পুরসভার আসন সংখ্যা বেড়ে ২০৯ হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যেই আসন্ন পুরভোটে বামফ্রন্টের আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে। আগের পুরভোটের তুলনায় এবার শরিক দলগুলি আরও বেশি আসন দাবি করবে বলেই বাম শিবির সূত্রে খবর। তবে আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে পুরনো সমীকরণ থেকে বেরিয়ে নতুন ফর্মুলার কথা ভাবছে সিপিএম। কোন ওয়ার্ডে কোন দলের সাংগঠনিক শক্তি বেশি, সেই হিসাবেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাব উঠতে পারে। যদিও শুধু অঙ্ক কষলে হবে না। যুক্তিসংগত আসন বণ্টন করতে হবে। আবার নির্বাচন আদৌ হবে কি না তা নিয়েই সংশয় রয়েছে। কারণ, বিজেপির রেকর্ড তৃণমূলের থেকেও খারাপ বলে মনে করছে বামফ্রন্ট নেতৃত্ব।

Advertisement

বামফ্রন্টের অন্দরের এই নয়া ফর্মুলা কার্যকর হলে কলকাতা পুরভোটে সিপিএমের লড়াই করা ওয়ার্ডের সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়তে পারে। কারণ, কলকাতার বহু ওয়ার্ডে শরিক দলগুলির তুলনায়  সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে সিপিএম। সেই শক্তির ভিত্তিতে আসন বণ্টন হলে স্বাভাবিকভাবেই সিপিএমের ভাগে বেশি ওয়ার্ড যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের আসন সমঝোতার কাঠামো বদলে দিয়ে শুধুমাত্র সাংগঠনিক শক্তির ভিত্তিতে আসন বণ্টনের প্রস্তাব শরিকরা কতটা মেনে নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি-সহ অন্যান্য শরিক দলের নিজেদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে এমন কয়েকটি ওয়ার্ডে তারা পুরনো দাবির ভিত্তিতেই আসন চাইতে পারে। গত কলকাতা পুরভোটে বামফ্রন্ট ১৪১টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দিয়েছিল। সেই সময়ের আসন বিন্যাসে সিপিএম পেয়েছিল ৯৬টি ওয়ার্ড। সিপিআই ১৪টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ১১টি এবং আরএসপি ১০টি ওয়ার্ডে লড়েছিল।

এছাড়া মার্কসবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক ২টি, সমাজবাদী পার্টি ২টি, ডিএসপি ২টি, বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেস ১টি, আরসিপিআই ১টি এবং আরজেডি ২টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দিয়েছিল। এবার পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ২০৯ হলে স্বাভাবিক ভাবেই গোটা সমীকরণ নতুনভাবে করতে হবে। শুধু আগের অনুপাতে আসন বাড়ানো হবে, না কি প্রতিটি ওয়ার্ডের বর্তমান সাংগঠনিক শক্তি, গত নির্বাচনের ফল, বুথভিত্তিক ভোট এবং স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে আসন ভাগ হবে-তা নিয়েই মূল আলোচনা হতে পারে ফ্রন্টের বৈঠকে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে আসন বণ্টনের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আরএসপির সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভট্টাচার্য।

অন্যদিকে, সিপিএমের প্রস্তাবিত ফর্মুলার মূল লক্ষ্য, বামফ্রন্টের ভোটকে ছড়িয়ে না দিয়ে যেখানে যে দলের জেতার সম্ভাবনা বেশি, সেখানে সেই দলকেই প্রার্থী করা। দলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র শরিকি সমঝোতার কারণে এমন কিছু ওয়ার্ডে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট দলের সাংগঠনিক শক্তি তুলনামূলক ভাবে দুর্বল। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে চাইছে সিপিএম। কিন্তু শরিকদের আপত্তির জায়গাও স্পষ্ট। কোনও দলের শক্তি শুধু সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফল দিয়ে বিচার করা যায় না-এমন যুক্তি তুলে ধরতে পারে শরিক দলগুলি। পুরনো সংগঠন, স্থানীয় নেতৃত্ব, দীর্ঘদিনের ভোটব্যাঙ্ক এবং কর্মীদের সক্রিয়তার বিষয়টিও আসন বণ্টনের সময় বিবেচনায় রাখার দাবি উঠতে পারে। ২০৯ ওয়ার্ডের কলকাতা পুরভোটে বামফ্রন্টের কাছে জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ সামলানোরও বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। সিপিএমের 'যেখানে সংগঠন শক্তিশালী, সেখানে প্রার্থী' ফর্মুলা শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয় এবং শরিকরা তা মেনে নেয় কি না, তার উপরই নির্ভর করবে বামফ্রন্টের পুরভোটের আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ছবি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement