রাহুল চক্রবর্তী: বয়স আশি ছুঁলেই আয়া পাবেন প্রাক্তন বিধায়করা। পাবেন আয়া বাবদ মাসে চার হাজার টাকাও। প্রশাসনিক সূত্রে এমনটাই খবর। সেইসঙ্গে এবার প্রাক্তন বিধায়কদেরও ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে একপ্রস্থ আলোচনাও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
[ আরও পড়ুন: একই অসুখে ভুগছেন ১০৯ আগরওয়াল! ব্যাপারটা কী?]
দিনকয়েক আগেই ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে মন্ত্রী, বিধায়ক, পঞ্চায়েত সদস্যদের। বিধায়কদের দৈনিক ভাতার পরিমাণ ছিল ১ হাজার টাকা। তা বেড়ে হচ্ছে ২ হাজার টাকা। অন্যদিকে মন্ত্রীদের দৈনিক ভাতা ছিল ২ হাজার টাকা। নতুন সিদ্ধান্তের পর তা হবে ৩ হাজার টাকা। বিধানসভার এনটাইটেলমেন্ট কমিটিতে এই ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে দাবি জানান বিধায়করা। তারপরই সরকার মন্ত্রী, বিধায়কদের ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সহকারী সভাধিপতি, কর্মাধ্যক্ষ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহকারী সভাপতি এবং পঞ্চায়েত প্রধান-সহ ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের সদস্যদের ভাতাবৃদ্ধির ঘোষণা করে সরকার।
[ আরও পড়ুন: ‘একটা সিরিয়াল করলেই বুদ্ধিজীবী!’, বিজেপিপন্থী ‘বিদ্বজ্জনদের’ আক্রমণ সুব্রতর]
এবার ভাতা বৃদ্ধির তালিকায় প্রাক্তন বিধায়করাও অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। এ বিষয়ে শাসক-বিরোধী প্রাক্তন বিধায়করা একপ্রস্থ আলোচনা করেছেন বলে খবর। বর্তমানে প্রাক্তন বিধায়করা ছয় হাজার টাকা চিকিৎসাবাবদ খরচ পান। সেটা দু’হাজার টাকা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন প্রাক্তন বিধায়করা ন্যূনতম আট হাজার টাকা পেনশন ও ছয় হাজার টাকা চিকিৎসাবাবদ মিলিয়ে পান মোট ১৪ হাজার টাকা। প্রাক্তন বিধায়কদের ক্ষেত্রে সর্বাধিক পেনশনের টাকার পরিমাণ ১২ হাজার টাকা। চিকিৎসা বাবদ মিলিয়ে মোট পান তাঁরা ১৮ হাজার টাকা। দু’টি ক্ষেত্রেই ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মেডিক্যাল অ্যালাউন্স দু’হাজার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেইসঙ্গে ন্যূনতম পেনশন ৮ থেকে বাড়িয়ে ১২ এবং সর্বাধিক পেনশন ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার টাকা করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এও জানা গিয়েছে, প্রাক্তন বিধায়কদের মধ্যে যাঁরা আশি বছরে পা দেবেন, তাঁরা অ্যাটেনডেন্ট বা আয়া রাখতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তাঁরা মাসে চার হাজার টাকা করে পেতে পারেন। যদিও গোটা বিষয়টি সবেমাত্র আলোচনা হয়েছে। সরকারের কাছে প্রস্তাব যাবে। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সেটা সময়সাপেক্ষ বলে মনে করেন আধিকারিকরা।
[ আরও পড়ুন: ‘তোষণ রাজনীতির জন্য বাংলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে’, বিস্ফোরক বিদায়ী রাজ্যপাল]
এ বিষয়ে বামফ্রন্টের পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “বয়স্ক, পুরনো, প্রাক্তন বিধায়কদের দিকে আরও দৃষ্টি দেওয়া দরকার সরকারের। তাঁদের সুযোগ-সুবিধাটা আরও বাড়ানো দরকার।” কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তীর বক্তব্য, “বেতন ও ভাতা সমান হওয়া উচিত মন্ত্রী, বিধায়কদের ক্ষেত্রে। বৈষম্য কেন থাকবে? আর প্রাক্তন বিধায়কদের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখুক সরকার।” রাজ্যের এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, সবেমাত্র আলোচনা হয়েছে। সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।
The post বয়স ৮০ ছুঁলেই আয়া পাবেন প্রাক্তন বিধায়করা, প্রস্তাব বিধানসভায় appeared first on Sangbad Pratidin.
