তিনি জিতেছেন, হেরেছেন। পদ পেয়েছেন, পদ হারিয়েছেন। জেল হয়েছে, জামিন হয়েছে। সব পথ পেরিয়েও কখনও মমতার হাত ছাড়েননি মদন মিত্র (Madan Mitra)। শত অভিমান ঝরে পড়েছে, তবুও পাশে থেকেছেন। এমনকী, যেদিন পরপর সবাই হাত ছাড়ছে, সেদিনও 'দিদি' মমতার পাশেই ছিলেন 'ভাই' মদন। কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডির ডাক আসতেই বদলে গেল পথ! কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়লেন মদন মিত্র। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে যোগ দিলেন 'আসল তৃণমূলে'। কিন্তু ছাড়ব বললেই তো ছাড়া যায় না! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর স্মৃতি অনেক। আর তাই পথ বদলের আগে দীর্ঘদিনের নেত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে দিলেন শেষ বার্তা!
মদন জানান, ''দীর্ঘদিন তিনি (পড়ুন-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আমাদের পাশে থেকেছেন। আমরাও চেষ্টা করেছি কমবেশি করার।''
রাজ্যে পালাবদলের পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ঘর ভেঙে খান-খান! তাঁর দীর্ঘদিনের আস্থাভাজনরা একে একে তাঁর সঙ্গ ছাড়ছেন। হাত ধরছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই তালিকায় নয়া সংযোজন মদন মিত্র। তবে 'আসল তৃণমূলে' যোগ দেওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হোয়াটস অ্যাপে একটি সংক্ষিপ্তবার্তা পাঠান কামারহাটির বিধায়ক। শুধু লেখেন, 'সরি'। শুধু তাই নয়, শিবির বদল করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি মদন। তিনি জানান, ''দীর্ঘদিন তিনি (পড়ুন-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আমাদের পাশে থেকেছেন। আমরাও চেষ্টা করেছি কমবেশি করার।'' তবে আগামিদিনে কালীঘাটে যে আর পা রাখবেন না তা সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক।
শিবির বদলের পরই বিধানসভার বাইরে সাংবাদিক বৈঠক করেন মদন মিত্র। সেখানে তিনি জানান, তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। শুধুমাত্র এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম। মদনের কথায়, ''ওই ঘরে হয়তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। এই ঘরে হয়তো একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম।'' শুধু তাই নয়, এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করেন কামারহাটির বিধায়ক। হিটলারি কায়দায় দল চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। মদন মিত্র বলেন, ''তৃণমূলের হাল যদি এখনই ধরা না যায় তাহলে বিজেপিকে কোনও দিন হারানো যাবে না। অভিষেককে দিয়ে বিজেপিকে হারানো যাবে না। হিটলারি কায়দায় চললে হবে না। প্লেন থেকে নেমে কোমরে হাত দিয়ে, ৪ তারিখ দেখে নেব বললে হবে না। মানুষের কাছে যেতে হবে।”
