ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানিয়েছিলেন, তিনি পুরনো পেশায় ফিরবেন। অর্থাৎ ফের কোর্টে আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই শামলা (আইনজীবীর পোশাক) পরে কলকাতা হাই কোর্টে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলায় সওয়াল করেন তিনি। তারপর বেরতেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁকে দেখা মাত্রই চোর স্লোগান তোলেন আইনজীবীদের একাংশ। উড়ে আসে কটাক্ষও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আদালত চত্বর। পালটা মমতা বললেন, "ওরা আমাকে মেরেছে।"
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে তৃণমূলের তরফে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে, জেলায় জেলায় তাঁদের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। কর্মীদের মারধর করা হচ্ছে। যদিও বিজেপি নেতারা বারবার জানিয়েছেন, রাজ্য শান্ত রাখতে যা পদক্ষেপ করা প্রয়োজন তা-ই করবে পুলিশ। ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির যোগ নেই বলেও জানানো হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, জেলায় জেলায় বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক রাতারাতি পতাকা বদল করেছে। তারাই বিজেপির পতাকা ব্যবহার পুরনো সহকর্মীদের উপর অত্যাচার করছে। ফলপ্রকাশের পর থেকে একাধিক বিজেপি নেতা-কর্মীও আক্রান্ত হয়েছেন। এমনকী দু’জন বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। আজ, বৃহস্পতিবার ছিল সেই মামলার শুনানি। তাতে অংশ নেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
সওয়াল করতে গিয়ে প্রথমেই প্রধান বিচারপতির কাছে অনুমতি চেয়ে বলেন, "আমি ১৯৮৫ সাল থেকে আইনজীবী। এবং সেই হিসাবেই আমি সওয়াল করতে চাই।” এরপরেই একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সওয়াল-জবাব শেষে শামলা পরেই কোর্ট রুম থেকে বের হন তিনি। লবিতে পৌঁছতেই ওঠে চোর স্লোগান। পালটা মমতা দাবি করলেন, তাঁকে মারা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভোটগণনার দিনও তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন মমতা।
