তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবির নিয়ে চলছে জোর টানাপোড়েন। ঢিল ছোড়া দূরত্বে মেয়ো রোড ও তারামণ্ডলে হওয়া দুই সভামঞ্চ থেকে তীব্র আক্রমণ শানাল দুই শিবিরই। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দীর্ঘ ভাষণ শেষে "আসল তৃণমূল জিন্দাবাদ" বলে স্লোগান দিলেন খোদ মমতা। তাহলে কি নেত্রীকে এখন এই স্লোগান তুলে 'আসল, নকল' বোঝাতে হচ্ছে? সেই প্রশ্নও উঠেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee) এদিন ছেড়ে যাওয়া নেতাদের উপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন! নেত্রীকেই সবার উপরে বসিয়ে কার্যত অভিষেক 'ঢাল' করেছেন মমতাকেই! এদিকে মেয়ো রোডের শহিদ সমাবেশ মঞ্চ থেকেও কালীঘাট শিবিরকে তীব্র নিশানা করেছেন ঋতপন্থীরা!
মেয়ো রোড থেকে এদিন বিজেপি ও ঋতপন্থীদের তীব্র বিঁধেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর বক্তব্যের বেশি সময়ই তব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে নিশানা করেছেন তিনি! এমনই মত রাজনৈতিক মহলের। শুধু তাই নয়, তারাই 'আসল তৃণমূল' বলে দাবি করে স্লোগান তোলেন মমতা। নেতারা চলে গেলেও কর্মীরা আছেন। নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলা হবে। ফের জেলা সফরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন নেত্রী। প্রয়োজনে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও দিল্লিতে গিয়ে সামিল হতে পারেন, সেই কথা জোর গলায় জানিয়েছেন তিনি। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখার বার্তাও দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিরোধী শিবিরকে মমতার বার্তা, "বিজেপিতে যান। যত যাবেন খুশি হব। যে স্থান শূন্য হবে, তা পূরণের জন্য আমার ছাত্র, যুব আছে।" এরপরই যোগ করেন, "চোরগুলো বিজেপিতে চলে গিয়েছে। আর ফেরত নেব না। কালকের অপারেশন কারা করেছে, আমি প্রত্যেকটার নাম জানি।" কর্মীরাই যে তাঁর সম্পদ, সেই কথা আরও একবার মনে করিয়েছেন তিনি। আগে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা জেলাসফরে যেতেন। এবার নেত্রী হিসেবে জেলায় জেলায় মানুষের কাছে পৌঁছে যাবেন, সেই কথাও জানিয়েছেন মমতা। ঋতপন্থীদের বিঁধে তিনি বলেন, "তুমি প্রতীক কাড়লে, আমি ছাড়ব না। আমাদের প্রতীক কাড়তে পারে না। গায়ের জোরে করছে। আমি সুপ্রিম কোর্ট অবধি যাব। আর নাহলে আমি তোমাদেরও সবটা কেড়ে নেব।"
এদিকে, অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১ জুলাইকে তোপ দেগেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "আগে শহিদ মঞ্চে শুধু নাচা গানা হত। এই সমাবেশে ওসব চলবে না। তারকাদের এনে ক্যাটওয়াক হত। এটা কি ক্যাটওয়াকের জায়গা?" এরপরই তাঁর সংযোজন, "মমতা বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে তিরানব্বইয়ের দোষীদের সাজা দেবেন। দেননি কেন? কমিশনের রিপোর্টকে ইচ্ছাকৃতভাবে চেপে দেওয়া হল। এর জবাবদিহি করতে হবে মমতাকেই।"
