চলতি মাসে এখনও অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা পাননি বহু মহিলা। তার প্রতিবাদে সরব 'বঞ্চিত'রা। রাজ্য জুড়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তাঁরা। এই ক্ষোভ-বিক্ষোভকে মোটেও ভালো চোখে দেখছেন না মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। মহিলাদের অসন্তোষের নেপথ্যে তৃণমূলকেই দায়ী করলেন তিনি।
শনিবার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন। বলেন, "অভ্যাস হয়ে গিয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে। এটাও জানা উচিত, সব সুবিধা সকলের জন্য নয়। কেন্দ্রীয় সরকার নানা প্রকল্প করেছে। রাজ্য সরকারও করেছে। তার একটা সীমা আছে। তার জন্য ক্রাইটেরিয়া ঠিক করা আছে। এর মধ্যে যাঁরা পড়বেন, তাঁরা পাবেন। দানধ্যান সবাইকে দেওয়া হবে, এই অভ্যাস খারাপ করে দিয়েছে তৃণমূল। এটা সবাইকে বুঝতে হবে। এটা চলতে পারে না।"
এর আগে শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দপ্তরে অগ্নিমিত্রা পালকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বৈঠকে বসেন মন্ত্রী। বিক্ষোভের আঁচ এতটাই বেড়ে যায় যে পরিস্থিতি সামাল দিতে বৈঠক মাঝপথে থামিয়ে দিতে বাধ্য হন অগ্নিমিত্রা পাল। এই বিক্ষোভের নেপথ্যে তৃণমূলের যোগসাজশ দেখছেন মন্ত্রী। বলেন, “আমার মা-বোনেদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। যদি ধরি ২ কোটি মহিলার যদি আবেদন করেছেন, সেগুলি আপলোড করতে একটু সময় লাগবে। সেই সময়টা দিতে হবে।” ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, “বলতে খারাপ লাগছে, অনেক তৃণমূলের লোক ভিতরে বসে রয়েছে। অনেক গণ্ডগোল পাকাচ্ছে। আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকেও জানাচ্ছি।” বলে রাখা ভালো, এর আগে বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউড়িও একই অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ্যদের অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছেন। আর তার ফলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে আগামিদিনে সব ঠিক হয়ে যাবে বলেই আশা তাঁর।
