shono
Advertisement
National Medical College

হৃদরোগের জরুরি পরিষেবায় বড় শূন্যতা ন্যাশনাল মেডিক্যালে

সরকারি হাসপাতাল লক্ষ লক্ষ মানুষের শেষ ভরসা। কিন্তু সেই ভরসার ভিত কতটা মজবুত? কোথায় দুর্বল স্বাস্থ্য পরিষেবা? পরিকাঠামোর অভাবই কি বাড়াচ্ছে রোগীদের দুর্ভোগ? চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা সচেষ্ট, তবু গাফিলতি কোথায়? ‘সংবাদ প্রতিদিন’ অন্তর্তদন্ত। আজ দ্বিতীয় পর্ব।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 08:47 PM Jul 18, 2026Updated: 08:58 PM Jul 18, 2026

ফুসফুসে গুরুতর চোট পেয়ে ন‌্যাশনাল মেডিক‌্যাল কলেজে এলে ফিরতে হবে ‘রেফার’ হয়ে। শহরের অন‌্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে বন্ধ কার্ডিও থোরাসিক ভাস্কুলার ডিপার্টমেন্ট। একজন চিকিৎসক নিয়ে চলছিল টিমটিম করে। তিনি অন‌্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ায় এখন বন্ধ কলকাতার ন‌্যাশনাল মেডিক‌্যাল কলেজের কার্ডিও থোরাসিক ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগ। হার্টের জটিল বাইপাস সার্জারি তো বটেই, ফুসফুসের দুর্বোধ‌্য অসুখ, হৃদরোগের জন্মগত গোলমেলে ত্রুটির চিকিৎসা করেন কার্ডিও থোরাসিক ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরাই। পার্ক সার্কাসের ন‌্যাশনাল মেডিক‌্যাল কলেজের মতো একটি হাসপাতালে দ্রুত তা শুরু হওয়া প্রয়োজন বলেই মনে করছেন আধিকারিকরা।

Advertisement

হাসপাতালটির অবস্থান পার্ক সার্কাস স্টেশনের কাছে। যাতায়াতের সুবিধার জন‌্য ফি দিন ন‌্যাশনাল মেডিক‌্যাল কলেজের বহির্বিভাগে অগুনতি রোগী আসেন। গড়ে প্রায় হাজার পাঁচেক রোগী আসেন আউটডোরে। তার মধ্যে অনেকেই আসেন হৃদরোগের নানা সমস‌্যা নিয়ে। আপাতত কার্ডিওলজি ডিপার্টমেন্ট দিয়েই কোনওমতে চলছে সিটিভিএস-এর কাজ। এই হাসপাতালে মোট বেড ১৪৭০। তার মধ্যে সপ্তাহে সাত দিন চব্বিশ ঘণ্টা কার্যকর থাকে ১৪০০ বেড। ফি দিন সত্তর-আশিটা গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয় ন‌্যাশনাল মেডিক‌্যাল কলেজে।
এমন গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে অভাব রয়েছে কার্ডিওলজিস্ট বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞেরও। শহরের অন‌্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি হাসপাতালে সপ্তাহে চারদিন মাত্র আউটডোর চলে কার্ডিওলজির। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটাকে সপ্তাহে সাতদিন করতেই হবে। কারণ? প্রান্তিক মানুষের ভরসা এই ধরনের সরকারি হাসপাতাল। বেসরকারি হাসপাতালে বিপুল খরচের জন‌্য যেতে পারেন না আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষ। সে ক্ষেত্রে রবিবার বাদে সপ্তাহে অন্তত ছ’দিন কার্ডিওলজির আউটডোর চালু রাখতেই হবে। শুধু কার্ডিওলজি নয়, প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগেও চিকিৎসক মাত্র একজন ন‌্যাশনাল মেডিক‌্যাল কলেজে। একজন মাত্র চিকিৎসকের পক্ষে এত বড় একটা সরকারি হাসপাতালে কাজ চালানো রীতিমতো চ‌্যালেঞ্জ। গ‌্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিভাগও কার্যত ফাঁকা এই হাসপাতালে। একজন চিকিৎসককে পাওয়া যায় কোনওরকমে। অভিযোগ রয়েছে আরও। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে অন‌্য অভিযোগ। ন‌্যাশনাল মেডিক‌্যাল কলেজে অতিরিক্ত মেডিক‌্যাল সুপারিটেন্ডেন্ট ডা. কিংশুক বিশ্বাসের সুপারিশে বহু চিকিৎসক একসময় গিয়েছেন সেবাশ্রয় শিবিরে। তৃণমূল সাসংদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ‌্যায়ের যে সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ‌্য দপ্তর। হাসপাতালের অন‌্যান‌্য আধিকারিকদের অন্ধকারে রেখেই দিনের পর দিন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের ‘ডিউটি’-তে পাঠাতেন একদা ডা. সন্দীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ ডা. কিংশুক বিশ্বাস। (চলবে)

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement