পার্ক ইনস্টিটিউশন ফর গার্লস স্কুলের আরও ৭ জন অসুস্থ। হাসপাতালে মোট ভর্তি ৩৩। অসুস্থরা সকলেই হস্টেলের আবাসিক। মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য দপ্তর, পুরসভা এবং শিশু সুরক্ষা কমিশনের আধিকারিকরা স্কুলে গিয়েছেন। পানীয় জলের পরীক্ষা করা হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হয়েছে পরিকাঠামো। দায়িত্বে থাকা সমগ্র শিক্ষা মিশন কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এক সপ্তাহের জন্য হস্টেল ছুটি দেওয়া হয়েছে।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে আবাসিকের ছাত্রীরা দুধ-মুড়ি খেয়ে পরীক্ষা দিতে যায়। নবম ও দশম শ্রেণির জন্য হোস্টেলে রান্না করা হয়। দুপুরে রান্না হয়েছিল ভাত ও আলু পটলের ডালনা। সেই খাবার খেয়েছে নবম-দশম শ্রেণির পড়ুয়ারা। এ দিকে যেমন মিড ডে মিলের রান্না হয়, তেমনই হয়েছিল। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীদের মিড ডে মিল দেওয়া হয়। সোমবারের মিড ডে মিলের মেনু ছিল ভাত, সবজি ডাল ও ডিম। হেঁশেল নামে কমিউনিটি কিচেন থেকে সেই খাবার গিয়েছে ৯০টা স্কুলে। প্রায় ৪ হাজার পড়ুয়া সেই খাবার খেয়েছে। তাদের শারারিক অসুস্থতার কোনও খবর এখনও আসেনি। তাহলে কেন আসাবিক পড়ুয়াদেরই সমস্যা দেখ দিল?
এই ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে অভিভাবকরা। তাঁদের দাবি, জল থেকে এই সমস্যা হচ্ছে। মালঞ্চ থেকে আসা অভিভাবক আরতি সর্দার জানান, "মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তিন বছর হস্টেলে থাকে। শনিবার থেকে জ্বর। ওষুধ দিয়েছে। আগেও হোস্টেলের জল নিয়ে মিটিংয়ে বলা হয়েছিল। কারণ জল থেকে আমার মেয়ে আগেও অসুস্থ হয়েছে।" আরও এক অভিভাবক রূপা গোস্বামী বলেন, "এদের জলের সমস্যা। ট্যাংক পরিষ্কার হয় না। আমরা মিটিংয়ে বলেছি মাসে একবার করে জলের ট্যাংক পরিষ্কার করতে। কিন্তু সেটা হয় না।"
তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অলকানন্দা মজুমদার জানান, "বছরে দু'বার জলের ট্যাংক পরিষ্কার করা হয়। মাধ্যমিকের সময় করা হয়েছিল। এই জল কিন্তু শুধু ছাত্রীরা নয় আমরা শিক্ষিকারাও খাই।" অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্রীরা সুস্থ রয়েছে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
