shono
Advertisement
Ration

আবাসের বাড়ি পেতে 'নিউক্লিয়ার' রেশন কার্ড, দুর্নীতি আটকাতে 'সিস্টেম ব্লক', অবশেষে সুরাহা

বিগত সরকারের আমলে এই দুর্নীতি সামনে আসতেই সেই 'সিস্টেম ব্লক' করে দেয় খাদ্য মন্ত্রক। তাতেই বিপুল সমস্যার মধ্যে পড়েন বাস্তব সমস্যায় জর্জরিত 'নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি'। যৌথ পরিবারের রেশন ব্যবস্থার অধীনে থেকে পরিবার-বিচ্ছিন্ন হওয়ার জেরে মিলত না রেশন। সেই সমস্যা মিটিয়ে পুরনো 'ব্লক' খুলে দেওয়া হল।
Published By: Subhankar PatraPosted: 03:44 PM Sep 04, 2026Updated: 05:04 PM Sep 04, 2026

এক পরিবার, হাঁড়ি আলাদা। সেই সুযোগে বাংলা আবাস যোজনায় আলাদা আলাদা বাড়ি জোগাড়ে যৌথ পরিবার ভেঙে 'নিউক্লিয়ার' রেশন কার্ড। বিগত সরকারের আমলে এই দুর্নীতি সামনে আসতেই সেই 'সিস্টেম ব্লক' করে দেয় খাদ্য মন্ত্রক। তাতেই বিপুল সমস্যার মধ্যে পড়েন বাস্তব সমস্যায় জর্জরিত 'নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি'। যৌথ পরিবারের রেশন ব্যবস্থার অধীনে থেকে পরিবার-বিচ্ছিন্ন হওয়ার জেরে মিলত না রেশন। সেই সমস্যা মিটিয়ে পুরনো 'ব্লক' খুলে দেওয়া হল। এবার থেকে যৌথ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া একক সংসারও পাবে রেশন। তার জন্য নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি দিলেই মিলবে সুরাহা।

Advertisement

গুরুতর এই সমস্যা নিয়ে মাসকয়েক আগেই খাদ্যদপ্তরকে চিঠি দিয়েছিল রেশন ডিলারদের সংগঠন ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশন। তারা জানায়, পুরনো ডেটাবেসের ত্রুটির কারণে বহু দরিদ্র ও প্রকৃত উপভোক্তা রেশনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যার জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রেশন ডিলারদেরও চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল। এই ডিজিটাল রেশন কার্ডের ডেটাবেস তৈরির কাজ চলছিল কয়েক বছর ধরেই। যৌথ পরিবার হিসাবে নথিভুক্ত হলেও পরে অনেক ক্ষেত্রেই 'নিউক্লিয়ার' পরিবারে পরিণত হয় সামাজিক এবং বাস্তবিক কারণে।

কিন্তু ততদিনে আবাস দুর্নীতি সামনে আসতে শুরু করে। বিভাগীয় তদন্তে দেখা যায়, এর সঙ্গে অনেকাংশে যোগ রয়েছে রেশন দুর্নীতিরও। বাস্তবিক কারণ ছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যৌথ পরিবার থেকে নথি দেখিয়ে নিউক্লিয়ার পরিবারে পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবেদন করা হয়েছে আবাসের বাড়ির জন্য। অথচ বাস্তবে পরিবার যৌথই রয়েছে। পরিবারের প্রধান কর্তা, তার দুই ছেলের নামে আলাদা আলাদা আবাসের বাড়ি। এমন অভিযোগ পেয়েই ব্লক করে দেওয়া হয় যৌথ পরিবারের সদস্যদের পৃথক রেশন কার্ড বানানোর আবেদন।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানান, সে সময় এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ফরম ১৪ বা অনলাইন-হাউজহোল্ড ডিভিশনের মাধ্যমে ডিজিটাল রেশন কার্ড আলাদা করার সুযোগ পাচ্ছিলেন না মানুষ। প্রক্রিয়াগত সমস্যা হল, যৌথ পরিবারের তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় যাচাই প্রক্রিয়া গোটা পরিবারকে একটি আর্থিক ইউনিট হিসাবে গণ্য করছিল। ফলে কোনও পরিবারের আর্থিকভাবে সচ্ছল কোনও সদস্যের রেশন কার্ড বাতিল করতে গিয়ে একই প্রোফাইলে থাকা অন্য দরিদ্র ও যোগ্য উপভোক্তারও রেশন কার্ড বাতিল হয়ে যাচ্ছিল। গ্রাহকরা রেশন তুলতে পারছিল না। যাতে প্রকৃতভাবে যাচাই করে নতুন করে কার্ড পুনর্বহাল করা যায় তার জন্যই চিঠি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement