shono
Advertisement
Terrorist Rana

সঙ্গীদের নাম আড়াল করতে মোবাইল ভাঙে জঙ্গি রানা! নোটবুক হাতড়ে খোঁজ মিলল ৬ পাক চরের

কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার সেনা ছাউনি, সীমান্তে বিএসএফ ছাউনি ও রেল স্টেশন, রেলপথের ছবি, ভিডিও ও ম্যাপ নিজের মোবাইলের কয়েকটি অ্যাপ থেকে নেপালের ৫ জন পাক চরকে পাঠাত রানা।
Published By: Sayani SenPosted: 11:15 PM Aug 12, 2026Updated: 11:15 PM Aug 12, 2026

সঙ্গীদের নাম আড়াল করতে ভেঙে ফেলেছি মোবাইল। গোয়েন্দাদের জেরার মুখে এমনই দাবি ধৃত আইএসআই এজেন্ট রানা রউফ খালিদের। কিন্তু মোবাইল ভেঙে ফেলেও লাভ হল না। রানার নোটবুক ঘেঁটেই গোয়েন্দাদের তদন্তে উঠে এল আরও অন্তত ৬ জন আইএসআই এজেন্টের নাম। তাদের মধ্যে ৫ জন নেপাল ও ১ জন বাংলাদেশের বাসিন্দা। রাজ‌্য পুলিশের এসটিএফের হাতে হাবড়া থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে পাক চর। তপসিয়া থেকে ধরা পড়েছে তার সঙ্গীও। পাক চর রানার সঙ্গে বিদেশে তার সঙ্গীদের প্রতিনিয়ত যোগাযোগ ছিল। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার সেনা ছাউনি, সীমান্তে বিএসএফ ছাউনি ও রেল স্টেশন, রেলপথের ছবি, ভিডিও ও ম‌্যাপ নিজের মোবাইলের কয়েকটি অ‌্যাপ থেকে নেপালের ৫ জন পাক চরকে পাঠাত রানা। তাকে এই কাজে সাহায‌্য করত তপসিয়ার মহম্মদ ইজাজ।

Advertisement

এছাড়াও কলকাতার আরও দু’জন, যারা পূর্ব কলকাতার বাসিন্দা, তারাও রানাকে এই চরবৃত্তিতে সাহায‌্য করত বলে অভিযোগ। নেপালের ওই ৫ জনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ‌্য ও প্রমাণ নষ্ট করতে নেপালেই নিজের মোবাইল ভেঙে ফেলে ধৃত পাক চর রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলম। এই ৫ জন হচ্ছে কাশিফ, হানিফ চৌধুরি, সোহায়েল, জেডি ও হারুণ সফদার। তারা ছাড়াও বাংলাদেশের আইএসআই এজেন্ট পাভেল, ওই ৬ জনের নাম রানা লিখে রাখে নোটবুকে। সে মোবাইল ভেঙে ফেললেও দু’টি সিমকার্ড নষ্ট করেনি। সেই সিমকার্ড দু’টি এসটিএফ উদ্ধার করেছে। জেরার মুখে এসটিএফের গোয়েন্দাদের কাছে ধৃত আইএসআই এজেন্ট রানা স্বীকার করে যে, কাঠমান্ডুতে এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করে বনগঁা দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার কথা ছিল তার। রানার জন‌্য বাংলাদেশের পাক চর এজেন্ট পাভেল অপেক্ষা করে ছিল যশোরে। বাংলাদেশে গিয়ে পরবর্তী ছক কষার জন‌্য বৈঠক করার কথা ছিল তার। যশোরে পৌঁছনোর পরই পাভেল তার হাতে একটি নতুন মোবাইল তুলে দিত। সেই মোবাইলে দু ’টি সিম ভরে ফের নেপাল ও পাকিস্তানে যোগাযোগ করার ছক কষে রানা। বাংলাদেশ ও নেপালের এই ৬ জনের ব‌্যাপারে বিদেশ মন্ত্রকের মাধ‌্যমে বাংলাদেশ ও নেপাল সরকারকে জানানো হচ্ছে বলে খবর।

গোয়েন্দারা জেনেছেন, চরবৃত্তির পর কিছু তথ‌্য পাচার করে টাকা জোগাড় করে সে। যদিও তার কাছ থেকে মাত্র ৩৫০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। হাবড়ার চোংদা বাজারের কাছে ধরা পড়ার পর রানা নিজের আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড গোয়েন্দাদের দেখিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে, সে আসলে তপসিয়ার বাসিন্দা ওয়াহাব আলম। লম্বা, মুখে অল্প দাড়ি থাকা ওই যুবককে যখন এসআইআরে তার নাম বাদ পড়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন সে ঘাবড়ে যায়। টানা জেরার মুখে সে স্বীকার করে যে, সে আসলে পাকিস্তানি। তার কাছ থেকে সিমকার্ড উদ্ধার হওয়ার পর মোবাইল খোঁজার সময় সে তা ভেঙে ফেলার বিষয়টি স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement