কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে সামনে আসছে আরও অভিযোগ। দক্ষিণ শহরতলির হরিদেবপুর এলাকায় একটি তোলাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতে সুদীপ পোল্লের এক ঘনিষ্ঠ প্রোমোটারকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। অভিজিৎ দাস নামে ওই প্রোমোটার, ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ও ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুদীপ পোল্লে, তাঁদের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হরিদেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তৃণমূল নেতা সুদীপ পোল্লে। ঠাকুরপুকুর থানায় সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে জোড়া অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তার জের কাটতে না কাটতেই পাশের থানা হরিদেবপুরে ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। তার মধ্যে একটি ঘটনা ঘটে বৈশালীবাগ এলাকায়।
ওই অঞ্চলেরই এক বাসিন্দার অভিযোগ, তিনি নিজের জমিতে পাঁচিল দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তার জন্য কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের কাছ থেকে পুরসভার অনুমতি নিতে যান। সুদীপ তাঁকে বলেন, তিনি পাঁচিল দিতে পারেন। কিন্তু তাঁর সহযোগী প্রোমোটারকে দিয়েই কাজ করাতে হবে। না হলে পাঁচিল করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। অভিজিৎ দাস নামে ওই প্রোমোটারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পাঁচিল তৈরির জন্য ৬ লাখ টাকা লাগবে। অথচ অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর হিসাবে ছিল দু’লাখ টাকার মধ্যেই পাঁচিলের কাজ শেষ করা যাবে। সেখানে তাঁর কাছ থেকে অতিরিক্ত চার লাখ টাকা দাবি করা হয়।
ওই অঞ্চলেরই এক বাসিন্দার অভিযোগ, তিনি নিজের জমিতে পাঁচিল দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তার জন্য কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের কাছ থেকে পুরসভার অনুমতি নিতে যান। সুদীপ তাঁকে বলেন, তিনি পাঁচিল দিতে পারেন। কিন্তু তাঁর সহযোগী প্রোমোটারকে দিয়েই কাজ করাতে হবে।
অভিযোগকারী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, তিনি সাড়ে তিন লাখ টাকা আগাম দিয়েছেন। কিন্তু তার বদলে পাঁচিলের কাজই শুরু করেননি ওই প্রোমোটার। তিনি টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। কাউন্সিলর ও প্রোমোটারের সঙ্গী ট্যাম, যে হরিদেবপুর এলাকার ‘ত্রাস’ বলে পরিচিত, সে-ও এসে ওই ব্যক্তিকে হুমকি দেয়। ভয়ে তিনি মুখ খুলতে পারেননি। নতুন সরকার আসার পর তিনি হরিদেবপুর থানায় এই ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করেন।
তারই ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে সুদীপ-ঘনিষ্ঠ প্রোমোটার অভিজিৎ দাসকে জেরার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সুদীপ পোল্লে এখন ঠাকুরপুকুর থানার হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে পরে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানাতে পারেন হরিদেবপুর থানার আধিকারিকরা। অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এদিকে, সরশুনা থানার পুলিশের হাতে ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল যুব-নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁর নাম তপন বিশ্বাস। ধৃতের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
