shono
Advertisement

রেশনের চাল ও গম কেনাবেচা করতে বাকিবুরের নির্দেশে ভুয়ো শিবির! ইডির হাতে বিস্ফোরক তথ্য

কো অপারেটিভ ও খাদ্যদপ্তরের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার আধিকারিকদের ‘শ্যাডো’ সামনে রেখে 'দুর্নীতি'।
Posted: 08:54 PM Nov 22, 2023Updated: 08:54 PM Nov 22, 2023

অর্ণব আইচ: রেশনের চাল ও গম কেনাবেচা করতে কো অপারেটিভের সদস‌্য ও খাদ‌্যদপ্তরের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার আধিকারিকদের ‘শ‌্যাডো’ সামনে রেখেই বিপুল পরিমাণ টাকার দুর্নীতি করে বাকিবুর রহমান। তার জন‌্য বাকিবুরের নির্দেশেই ভুয়ো ‘শিবির’ও দেখানো হত বলে চাঞ্চল‌্যকর তথ‌্য এসেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের হাতে। বুধবার রেশন বন্টন দুর্নীতির অন‌্যতম অভিযুক্ত তথা ‘মাস্টারমাইন্ড’ ব‌্যবসায়ী বাকিবুর রহমানকে ব‌্যাঙ্কশালে ইডির বিশেষ আদালতে তোলা হয়। বাকিবুরের আইনজীবীরা আদালতে জানান, তিনি নির্দোষ। কোনও কৃষক দাবি করেননি যে, তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। যদিও এদিন তাঁরা আদালতে বাকিবুরের জামিনের আবেদন করেননি।

Advertisement

ইডির আইনজীবীরা আদালতে জানান, এই ক’দিনে তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে। তাঁরা বাকিবুরের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের আবেদন করেন। দু’পক্ষের বক্তব‌্য শুনে অভিযুক্ত বাকিবুর রহমানকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। এদিকে, রেশন বন্টন দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ‌্য পেতে এবার রাজ্যে খাদ‌্যদপ্তরকে চিঠি দিল ইডি। ইডির সূত্র জানিয়েছে, ধৃত বাকিবুর রহমানের চালকল ও গমকলগুলি কবে রাজ‌্য সরকারির অনুমোদন পেয়েছে ও একই সঙ্গে মিলের লাইসেন্স থেকে গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তর মিলে কত পরিমাণ চাল ও গম পৌঁছেছে, সেই তথ‌্য খাদ‌্যদপ্তরের কাছ থেকে লিখিতভাবে ইডি জানতে চেয়েছে।

[আরও পড়ুন: অফিস টাইমে মেট্রোয় আত্মহত্যা! ব্যাহত পরিষেবা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা]

এদিন আদালতে ইডির আইনজীবী ভাস্করপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ‌্যায় জানান, প্রাথমিকভাবে তদন্তে রেশনের আটা বিক্রি নিয়ে দুর্নীতির তথ‌্য উঠে এসেছে। পরবর্তীকালে তদন্তে ইডি দেখেছে যে, একই ‘মোডাস অপারেন্ডি’ বা পদ্ধতিতে রেশনের চালও চোরাপথে বিক্রি হয়েছে। ইডির দাবি, রাজ‌্য সরকার মনোনীত কো অপারেটিভের মাধ‌্যমে কৃষকদের কাছ থেকে গম বা ধান কেনার নিয়ম। তার বদলে কো অপারেটিভ শস্যের কুইন্টাল পিছু ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পায়। নিজস্ব জমি না থাকলেও কৃষক তা বিক্রি করতে পারেন। কৃষক কো অপারেটিভ ও মিল মালিকদের সামনে রেখে খাদ‌্যদপ্তর ও সংযুক্ত সরকারি সংস্থার আধিকারিকরা একটি শিবিরে ধান ও গমের দাম ধার্য করেন। কিন্তু বাকিবুরের নেতৃত্বে মিল মালিকরা অত‌্যন্ত কম টাকায় কৃষকদের কাছ থেকে সেই ধান বা গম কিনে নিত।

‘ওয়েস্ট বেঙ্গল এসেনশিয়াল কমোডিটিস সাপ্লাই কর্পোরেশন লিটিমিড’, ‘ব্লক এক্সটেনশন অফিসার অ‌্যান্ড ইন্সপেক্টর অফ কো অপারেটিভ সোসাইটিস’-এর ইন্সপেক্টর, খাদ‌্যদপ্তরের ইন্সপেক্টর, সাব ইন্সপেক্টররা এফসিআই থেকে গম ও ধান কেনার দায়িত্বে ছিলেন। যদিও ইডির দাবি, তার বদলে কো অপারেটিভের সদস‌্য ও ওই আধিকারিকদের ছায়া বা ‘শ‌্যাডো’ দাঁড় করিয়ে তাঁদের স্ট‌্যাম্প ও সিল নিয়ে নিতেন বাকিবুর। এরকম ১০৯টি স্ট‌্যাম্প ও সিল বাকিবুরের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের স্ট‌্যাম্প ব‌্যবহার করে ভুয়া শিবির দেখিয়ে ধান ও গম সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হত মিলে। ফলে কৃষকরা যোগ‌্য মূল পেতেন না। তাঁদের দিনের পর দিন শোষণ করা হয়েছে বলে দাবি ইডির।

[আরও পড়ুন: নিউমোনিয়া সারাতে শিশুকে ৪০ বার লোহার রডের ছ্যাঁকা! অভিযুক্ত মা, ঠাকুরদা-সহ ৩]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement