শুভময় মণ্ডল: পুজোর শহরে সুরুচি সংঘ মানেই ভ্রমণপিপাসু বাঙালির বেড়ানোর সাধপূরণ। সেই এক দশক আগে শুরু হয়েছে প্রথা, বছরের পর বছর থিমের মাধ্যমে ভারতভ্রমণের সুবন্দোবস্ত করে আসছে নিউ আলিপুরের এই পুজো। কাশ্মীর থেকে কেরলই হোক বা গুজরাট থেকে অসম, আসমুদ্রহিমাচলকে পুজোর থিমবন্দি করা সেই সুরুচিই এবার নিজেদের চিরাচরিত প্রথা ভাঙছে। ২০১৭ অর্থাৎ চলতি বছরেই থিমের পুজোয় প্রথা ভাঙতে চলেছে এই পুজো কমিটি। বছরের শুরুতেও ঠিক ছিল এবারের থিম হবে নাগাল্যান্ড। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাতিল হল সেই ভাবনা। থিমভাবনায় রাজ্য থেকে সরে এল সুরুচি সংঘ। অনেকেই বলেন, শহরের পুজোয় থিমশিল্পে এক অন্য পথ দেখিয়েছে সুরুচি। এবার বিভিন্ন রাজ্যের থিম থেকে সরে এসে ভাবনাভিত্তিক থিমে পা রাখছে পুজো কমিটি। কিন্তু কী সেই ভাবনা, তা এখনও খোলসা করেনি তারা। তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে পুজোপ্রেমী বাঙালিকে।
[এবার বারোয়ারি পুজোর বিজ্ঞাপনী চটকে রাশ টানতে উদ্যোগী পুরসভা]
দক্ষিণের এই হেভিওয়েট পুজোই প্রথম ঘর হতে দু’পা ফেলে ঈশ্বরের আপন দেশ ভ্রমণ করিয়েছিল। সৌজন্যে থিমশিল্পী সুধোধ রায়। ২০০৬ সালে শিল্পী সুবোধ রায়ের হাত ধরেই ভ্রমণপিপাসু বাঙালিকে পুজোর সময় অন্য রাজ্য ঘোরানোর বন্দোবস্ত করে সুরুচি। তার আগেও থিমপুজো করত সুরুচি। কিন্তু ২০০৬-এই রাজ্যভিত্তিক থিমের পথে হাঁটে এই পুজো কমিটি। থিমের মধ্যে দিয়ে ভারতের দক্ষিণতম রাজ্য কেরলকে চাক্ষুষ করিয়েছিলেন শিল্পী। ঈশ্বরের আপন দেশ কেরল ছিল সেই বছরের থিম। কেরলের সংস্কৃতি, সেখানকার লোকশিল্পর সমাহার ছিল গোটা মণ্ডপ জুড়ে। এমনকী প্রতিমাতেও সেই ছাপ ছিল। বহু নামী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিল সুরুচির পুজো। বাকিটা ইতিহাস। তারপর একে একে গুজরাট, অসম, ঝাড়খণ্ড হয়েছে তাঁর হাত দিয়েই। ২০১০ সালে থিমের দায়িত্ব পান শিল্পী অমর সরকার। তাঁর ভাবনায় পুজোপ্রেমী বাঙালির দক্ষিণের রাজ্য কর্নাটক দর্শন হয়। ২০১১ সালে সুরুচি সংঘের পুজোর থিম করেন শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজস্ব ভাবনায় ভূস্বর্গ কাশ্মীরের অপরূপ শোভা মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলেন তিনি। তারপর সুরুচির থিমের ব্যাটন আর হাতবদল হয়নি। পরের বছর গোয়া এবং তারপর একে একে রূপসী বাংলা, ছত্তিশগড়, তামিলনাড়ুর শিল্পকে মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলেন শিল্পী। গতবছর পুজোর থিমের মাধ্যমে ভারত ছেড়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রাখে সুরুচি সংঘ। সেবার তাদের থিম ছিল ভুটান। পাহাড়ি এই দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থেকে শুরু করে সেখানকার লোকশিল্প, সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছিল পুজো মণ্ডপে। গতবছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুরুচি সংঘের পুজোর থিমগান লিখেছিলেন। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সুরে সেই গানে কন্ঠ দিয়েছিলেন সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল। থিমপুজোয় দশক পেরিয়েও সেই ধারা বজায় রেখেছিল সুরুচি সংঘ। কিন্তু এইবছর স্বাদবদল।
[উত্তর থেকে দক্ষিণ, পুজোর শহরে এবার তাক লাগাবেন এই শিল্পীরা]
সেই ২০১১ সাল থেকে সুরুচির থিম করছেন শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সুরুচির ঘরের ছেলেই বলা যায় তাঁকে। এতবছরের ট্র্যাডিশন থেকে সরে আসা প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘সুরুচি বরাবরই সাধারণ মানুষের কথা ভেবে পুজো করে আসছে। এখানকার কর্মকর্তারা তা সে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসই হোক না কেন, অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পুজোর কাজ করেন। এই প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে পুজো করার ক্ষেত্রেও আমার বিশ্বাস ফের নয়া পথ দেখাবে সুরুচি।’ তবে নাগাল্যান্ড না হোক, তার বদলে থিম কী হচ্ছে তা নিয়ে মুখে কুলুপ শিল্পীর। সেই বিষয়েও তাঁর যুক্তি, ‘কোনওদিনই থিম নিয়ে ঢাকঢোল পেটায় না সুরুচি। বরাবরই থিম নিয়ে রহস্য রেখে দেওয়া সুরুচির একটা স্টাইল। সেটা পুজোপ্রেমীদের মনেও সুরুচির থিম নিয়ে একটা কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। সেটাও বেশ মজার।’ বহু বছরের প্রথা ভেঙে বেরিয়ে এসে পুজোর শহরে সুরুচি এবার কী চমক দিতে চলেছে, সেই অপেক্ষায় বসে থাকবেন কৌতূহলী পুজোপ্রেমীরা।
The post ফাঁস হল সুরুচি সংঘের পুজোর থিম, এবারের চমক কী জানেন? appeared first on Sangbad Pratidin.
