বৃহস্পতিবার ভর দুপুরেই কার্যত সন্ধ্যা নেমে আসে কলকাতার আকাশে। অঝোরে বৃষ্টি, মুহুর্মুহু বাজ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাহত হয়ে পড়ে তারাতলার উদ্ধারকাজ। যদিও বৃষ্টি কমতেই ফের উদ্ধারকাজ শুরু করে পুলিশ, সেনা, দমকল, এনডিআরএফ। বুধবার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ধসে পড়ে বহু মানুষের মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে সারা রাত ধরে চলেছে উদ্ধারকাজ। বৃহস্পতিবার সারাদিন সেই কাজ চলছে। কিন্তু দুপুরে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই উদ্ধারকাজ স্তব্ধ হয়ে যায়। সেনা, এনডিআরএফ ও অন্য উদ্ধারকারীরা চলে যান নিজেদের ক্যাম্পে। প্রায় ঘণ্টা দু'য়েক পর বৃষ্টি কিছুটা কমলে সময় নষ্ট না করে ফের উদ্ধারকাজে হাত লাগায় সেনা।
এনডিআরএফের সূত্র জানিয়েছে, বৃষ্টি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে গর্তগুলির ভিতর দিয়ে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে প্রবেশ করে প্রাণের সন্ধান চালাচ্ছেন, সেই গর্তগুলি ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবুও ধ্বংসস্তূপের ভিতরে যে জল প্রবেশ করেনি, এমন নয়। বিভিন্ন জায়গা দিয়ে ভিতরে ঢুকতে থাকে জল। তবে উদ্ধারকারীদের দাবি, ভিতরে কিছুটা জল ঢুকলেও ভেসে যায়নি। যদিও জলের কারণে ভিতরে জীবন্ত মানুষ থেকে থাকলেও সেই ব্যক্তিটি সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই অল্প বৃষ্টি মাথায় নিয়েই উদ্ধারকাজ শুরু করেন উদ্ধারকারীরা। সূত্রের খবর, অ্যাঙ্কেল কাটার, ড্রিলিং যন্ত্র-সহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। তাই বৃষ্টিতে সেগুলি ব্যবহার করা যায়নি। কিন্তু যে যন্ত্রগুলি ব্যাটারিচালিত, সেগুলি ব্যবহার করা হয়। সেই ক্ষেত্রে আগামী দিনগুলিতেও শহরের আবহাওয়ার উপর রয়েছে সেনা-এনডিআরএফের নজর। উদ্ধাররের জন্য নাইট ভিশন ক্যামেরা-সহ বিভিন্ন ধরনের থ্রিডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। যে গর্তগুলি তৈরি করা হয়েছে, সেগুলি দিয়ে ক্যামেরাগুলি ধ্বংসস্তূপের ভিতরে প্রবেশ করানো হয়। ছবি ও ভিডিও তুলে প্রাণের সন্ধান চলছে। তবে এনডিআরএফের 'লাইভ ডিটেক্টর' যন্ত্রটি এখন আর প্রাণের সন্ধান পাচ্ছে না। পুলিশের সন্দেহ, এখনও অন্তত তিনটি দেহ ভিতরে আটকে রয়েছে।
এদিকে, ঘটনাস্থলের উল্টোদিকেই বসেছে সেনাদের চিকিৎসা ক্যাম্প। সেখানে একটি শিবিরে তিনটি বেড ও অন্য শিবিরে অত্যাধুনিক যন্ত্র-সহ দু'টি বেড রয়েছে। রয়েছে পর্যাপ্ত ওষুধও। উদ্ধার চালানোর সময় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সেই শিবিরে তাঁদের চিকিৎসা করছে সেনা। আহতদের উদ্ধারের জন্য আধুনিক স্ট্রেচারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনা বাহিনী।
