বুধবার দুপুরে তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউনে আচমকা নেমে আসে বিপর্যয়। তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বিল্ডিংয়ের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় ১৭ শ্রমিকের। ওই দিন দুপুর থেকেই উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেনা-এনডিআর টিম, দমকল বাহিনী। বিপর্যয়ের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে অবশেষে ঘটনাস্থল ছাড়তে শুরু করেছেন উদ্ধারকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধারকাজ আপাতত শেষ। ঘটনাস্থল থেকে একে একে চলে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। তবে উদ্ধারকাজ শেষ হলেও ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বিপর্যয় নেপথ্যের কারণ খুঁজতে, ঘটনাস্থলে রয়ে যাওয়া নমুনাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তদন্তকারীদের হাতে। তাই প্রমাণ অক্ষত রাখতেই তারাতলার ধ্বংসস্তূপে কড়া পাহারা দিচ্ছে পুলিশ।
বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে কলকাতা পুলিশের ফরেন্সিক টিম পরিদর্শনে যাবে কলকাতা পুলিশের ফরেন্সিক টিম। তারপরই শুরু হবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। ইতিমধ্যেই তারাতলায় নির্মাণকাজের সময় দুর্ঘটনার ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার।
জানা গিয়েছে, বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে কলকাতা পুলিশের ফরেন্সিক টিম পরিদর্শনে যাবে কলকাতা পুলিশের ফরেন্সিক টিম। তারপরই শুরু হবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। ইতিমধ্যেই তারাতলায় নির্মাণকাজের সময় দুর্ঘটনার ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ কুমার সিনহাকে কমিটির চেয়ারম্যান করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে কলকাতা পুরসভা, দমকল, পুলিশ, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, পিডব্লুডি সহ একাধিক দপ্তরের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে৷ ৭ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিনই পুলিশের অনুরোধে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জনের বিশেষজ্ঞ দল। কনস্ট্রাকশন বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার পার্থপ্রতিম বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি টিম তৈরি করে তারাতলায় পাঠানো হয়। দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে পার্থপ্রতিম বিশ্বাস জানান, "আমরা এখানে এসে দেখলাম ঠিকই, উদ্ধার কাজের পরেই সম্পূর্ণ জায়গা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দিতে পারব। এখনও এখান থেকে পচা গন্ধ বেরচ্ছে, সম্ভবত কিছু দেহাংশ আটকে আছে। এখান থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করব। মাটি পরীক্ষাও হবে।"
