shono
Advertisement
Ritabrata Banerjee

'কলেজ পরিচালন সমিতিতে কেন বিজেপি প্রতিনিধি?', ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি ঋতব্রতর

রানি রাসমণি রোডে ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই দাবি করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
Published By: Sayani SenPosted: 02:15 PM Aug 28, 2026Updated: 02:42 PM Aug 28, 2026

দীর্ঘদিন ধরে কলেজে কলেজে বন্ধ ছাত্র সংসদ নির্বাচন। তা নিয়ে বারবার রাজনৈতিক মহলে শোনা গিয়েছে উষ্মার সুর। রানি রাসমণি রোডে ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানমঞ্চে দাঁড়িয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)।

Advertisement

এদিন তিনি বলেন, "মমতা সরকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাত্র আন্দোলনের প্রোডাক্ট। ছাত্র সংসদ নির্বাচন অবিলম্বে করতে হবে।" সরাসরি বিজেপি সরকারের বিরোধিতা করে ঋতব্রত আরও বলেন, "তৃণমূলের ভুলের উপর দাঁড়িয়ে সরকার চালাবেন না। এই সরকার যা বলেছিল সেই অনুযায়ী কাজ করছে না। মমতায়ন, অনিলায়ন করবেন না।" কলেজ পরিচালন সমিতিতে কেন বিজেপি প্রতিনিধিরা, এদিন সে প্রশ্নও তোলেন ঋতব্রত।

উল্লেখ্য, বাম জমানায় শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির শুরু। বলা হয়, সেই সময় শিক্ষাক্ষেত্রে ‘অনিলায়ন’ হয়েছিল! কারণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতির কলকাঠি নাড়ানো হত আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে। সেই সময় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক ছিলেন অনিল বিশ্বাস। তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই নাকি চলত সবটা। ৩৪ বছরের বাম সাম্রাজ্যের পতন ঘটলেও শিক্ষাঙ্গণ থেকে রাজনীতির বিদায় ঘটেনি। ‘অনিলায়নে’র পর ‘তৃণমূলায়ন’ দেখেছে বাংলা। দলীয় পতাকাকে সামনে রেখে শিক্ষাঙ্গণকে কার্যত রাজনীতির আখড়া করে তোলা হয়েছিল। ভর্তি থেকে শুরু করে কর্মীদের বিভিন্ন বিষয়েও চলছিল দাদাগিরি। সম্প্রতি দেখা গিয়েছে কলকাতার কলেজে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে পরীক্ষা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূলের ছাত্রনেতা।

প্রতিবাদ করে বিপাকে পড়তে হয়েছিল দায়িত্ব প্রাপ্ত অধ্যক্ষ শান্তা দত্তকে। স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগের পরীক্ষায় ডাকাই হয়নি তাঁকে। সেই ঘুঘুর বাসা ভাঙতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিজেপি সরকার। ক্ষমতায় আসার পরই সরকার পোষিত স্কুল-কলেজগুলোর গর্ভনিং বডি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, গর্ভনিং বডিতে আর থাকবেন না কোনও রাজনৈতিক প্রতিনিধি। এতে শিক্ষা থেকে রাজনীতিকে আলাদা করা সম্ভব হবে। পরবর্তীকালে প্রশাসকও বসানো হয়। কিন্তু শনিবার শিক্ষাদপ্তরের তরফে জারি করা হয়েছে একটি বিজ্ঞপ্তি। সেখানে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এবার সরকারি ও সরকার পোষিত কলেজগুলো গর্ভনিং বডির প্রেসিডেন্ট পদে থাকবেন বিধায়ক অথবা সাংসদ। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই তালিকার সকলেই বিজেপির প্রতীকে জিতে আসা জনপ্রতিনিধি। নিজের বিধানসভা বা লোকসভা এলাকা না হওয়া সত্ত্বেও একাধিক কলেজের দায়িত্ব পেয়েছেন বিধায়ক ও সাংসদরা। শিক্ষাদপ্তরের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এদিন প্রশ্ন তুললেন ঋতব্রত।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement