কালীঘাট তৃণমূল বিজেপির লক্ষ্মীপেঁচা! সেটিংয়ের চেষ্টা হচ্ছে। মঙ্গলবার এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। কেন এমনটা মনে করছেন তিনি? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও, তিনি বুক ফুলিয়ে ঘুরছেন। বেড়ালকে বাঘ বানানোর চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, "যাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সেই বেড়ালকে বাঘ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মদনদা বলেছে সেফ প্যাসেজের জন্য তাদেরকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেটিং হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।"
আরও বিস্ফোরক দাবি করেছেন আরামবাগের তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গিয়েছে লিপস অ্যান্ড বাউন্সের তহবিলে। নির্বাচনে হারের পর ৩৬০ কোটি টাকা ট্রান্সফার হয়েছে। এই সবের পিছনে নাকি রয়েছে মাফিয়া চক্র।
ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা বিজেপির 'বি' টিম হিসাবে কাজ করছেন। সেই বিষয়টি উড়িয়ে পালটা কালীঘাট তৃণমূল সেটিংয়ের চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ঋতব্রত বলেন, "দেশের সলিসিটর জেনারেল থেকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি একাধিক তথ্য দিচ্ছে। তারপরও অভিযুক্তরা বাইরে ঘুরছেন। কারও নামে বিপুল সম্পত্তি, কেউ পাহাড় কিনছে। তারপরও সব ডট না মিলে মাথা অবধি না গেলে স্বাভাবিকভাবেই সেটিংয়ের আশঙ্কা রয়েছে। সেবাশ্রয়ের ফলে অঙ্গহানি হয়েছে। অঙ্গহানীর মূল কারিগর ভানুয়াতুতুতে কাটান, তাহলে দুঃখ পাব।"
ঋতব্রতরা যে বিজেপির বিরোধিতা করছেন, তার স্বপক্ষে বলতে গিয়ে জানিয়েছেন, তাঁদের অনেক নেতা জেলে, অনেকের নামে মামলা চলছে। সেটিং করলে এইগুলো হত না বলেই দাবি করছেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, "সাবিনা ইয়াসমিন থেকে শিউলি সাহাদের উপর আক্রমণ করা হচ্ছে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে। সেটিং হলে এই রকম হত না।"
অন্যদিকে, আরও বিস্ফোরক দাবি করেছেন আরামবাগের তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গিয়েছে লিপস অ্যান্ড বাউন্সের তহবিলে। নির্বাচনে হারের পর ৩৬০ কোটি টাকা ট্রান্সফার হয়েছে। এই সবের পিছনে নাকি রয়েছে মাফিয়া চক্র। কেরল, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, কলকাতায় বসে এই দুর্নীতি করা হয়েছে। যুক্ত রয়েছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ফুটবল কোচ থেকে শুরু করে প্রাক্তন সাংবাদিক, প্রাক্তন আইপিএস। তিনি বলেন, "অনেকগুলি ডট আছে। কলকাতার সঙ্গে ইউরোপের আবার মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে কেরলের। এই কাণ্ডে শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তি নন, বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা যুক্ত রয়েছেন।"
আরও জানিয়েছেন, কিছু তথ্য রয়েছে তাঁর কাছে সেগুলি তুলে দেবেন কেন্দ্রীয় কোনও তদন্তকারী সংস্থার কাছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তিনি দিল্লি যাবেন বলে জানিয়েছেন। ঋতব্রত বলেন, "ডটগুলি মেলানোর ক্ষমতা কেন্দ্রীয় এজেন্সির রয়েছে। তাই দিল্লি যাওয়া। আমাদের কাছে বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য আসছে। তা দায়িত্ববান নাগরিক হিসাবে জানানো উচিত।"
