"তৃণমূলীকরণ হলে বিজেপি থাকবে না। এটা হবেই না।" দলের কর্মীদের ফের বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। দলের দুই-একটি জায়গায় কর্মীদের মধ্যে বিচ্যুতি আছে। আগামী দিনে তাঁরাও সেগুলি ঠিক করে নেবেন। এদিন এমনই জোরালো দাবি করলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ। গতকাল, শনিবার দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন শমীক। রাজ্যে পালাবদলে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। দলের নিচুতলায় বহু মানুষ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসতে চাইছে। এক শ্রেণির বিজেপি কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে গতকাল, শনিবার আরও একবার সরব হয়েছিলেন তিনি। এদিনও এক শ্রেণির বিজেপি কর্মীদের নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
এদিন শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "দু-একটি জায়গায় ছোটখাটো বিচ্যুতি আছে কর্মীদের। তাঁরাই নিজেদের সংশোধন করে নেবেন। বিজেপির তৃণমূলীকরণ হয় না, হতে পারে। হলে সেটা আর বিজেপি থাকবে না। সুতরাং, এটা হবেই না।" তবে দলেরই একাংশকে নাম না করে কটাক্ষও করেছেন তিনি। শমীকের কথায়, "কেউ কেউ নিজেদের স্বঘোষিত কাউন্সিলর করে ফেলেছেন এলাকায় এলাকায়।" দলের সভা, কর্মসূচি ছাড়া বিভিন্ন জায়গায়, বাড়ির অনুষ্ঠানে দেদারে মাইক বাজানোর বিরোধী তিনি। শমীক বলেন, "রক্তদান উৎসব করছেন ভালো কথা। ৪৪ জন রক্ত দেবেন, আর ৪৪৪টি মাইকের চোঙা থাকবে! এর থেকে বেরোতে হবে সমাজকে। এগুলো পরিবর্তন করার জন্যই তো মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে।"
গতকাল, শনিবার রাজারহাটে এক অনুষ্ঠানে দলের কর্মীদের একাংশকেই সতর্ক করেন শমীক। তোলাবাজি যে এখনও সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায়নি, সেই কথাও বুঝিয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সম্পাদক। তিনি বলেন, “সমস্ত কিছুর সমাধান করা সম্ভব হয়নি। আমি যদি আমার দলের প্রতিনিধি হয়ে আপনাদের বলি যে রাজ্যের সব জায়গা থেকে তোলাবাজি বন্ধ করে দিতে পেরেছি, তাহলে ভুল বলা হবে। বিচ্যুতি রয়ে গিয়েছে। আসলে একটা বিশেষ পদ্ধতির মধ্য দিয়ে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়েছে, একটা সিন্ডিকেট রাজ তৈরি হয়েছে। শুধু ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলেই যে সমস্ত কিছু রাতারাতি বদলে যাবে, তেমনটা নয়।” ডিমথেরাপি প্রসঙ্গ উত্থাপন করে কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “অভিমুখ বদলাতে সময় লাগবে না।”
