shono
Advertisement
central project

পরিবর্তনের আবহে গতি ফিরছে রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে! গুরুত্ব পাচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে রাজ্যের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানে জল জীবন মিশন প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২,৭০০ কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
Published By: Subhankar PatraPosted: 04:31 PM May 09, 2026Updated: 04:39 PM May 09, 2026

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি হতে শুরু করেছে। 'ডবল ইঞ্জিন সরকার'-এর জেরে দীর্ঘদিন আটকে থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ফের গতি আসতে চলেছে বলে কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি। জল জীবন মিশন থেকে আয়ুষ্মান ভারত, একশো দিনের কাজ থেকে গ্রামোন্নয়ন বিভিন্ন খাতে বকেয়া অর্থ মেটানো এবং প্রকল্প পুনরুজ্জীবনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে রাজ্যের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানে জল জীবন মিশন প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২,৭০০ কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, খুব শীঘ্রই এ নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি হতে পারে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সচিব এবং রাজ্যের পূর্তদপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। প্রকল্পের অগ্রগতি, বরাদ্দ এবং বকেয়া সংক্রান্ত তথ্যও রাজ্যের তরফে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

শুধু জল জীবন মিশনই নয়, গ্রামোন্নয়ন, পঞ্চায়েতিরাজ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রের বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্রের বক্তব্য, এতদিন রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রশাসনিক অবিশ্বাসের কারণে বহু প্রকল্প থমকে ছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই 'বিশ্বাসের ঘাটতি' অনেকটাই কেটেছে বলে দাবি আধিকারিকদের। ফলে আটকে থাকা অর্থ ছাড় ও প্রকল্প বাস্তবায়নে আর বড় কোনও বাধা থাকবে না বলেই মনে করছে কেন্দ্র।

বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে এই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প কার্যকর হয়নি। এবার জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন এবং রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের মধ্যে
ইতিমধ্যেই একদফা আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রকল্পের গাইডলাইন, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং অর্থ বরাদ্দ-সব বিষয়েই আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত চালুর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। একইভাবে একশো দিনের কাজ যা বর্তমানে জিরামজি প্রকল্পেও ফের অর্থপ্রবাহ শুরু হতে পারে। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের মতে, এতদিন তথ্য ও পরিসংখ্যান সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়েছিল। পঞ্চায়েত মন্ত্রকের এক আধিকারিকের বক্তব্য, "রাজ্য সরকার আশঙ্কা করত যে কেন্দ্র তথ্য ব্যবহার করে বাংলাকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরবে। সেই রাজনৈতিক অবস্থানই উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।”

২০১৯ সালে চালু হওয়া পিএম কিষান প্রকল্প নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথমদিকে রাজ্য সরকার কৃষকদের তথ্য কেন্দ্রকে দিতে অনীহা দেখালেও পরে ২০২১-২২ অর্থবর্ষে প্রকল্প কার্যকর করতে সম্মত হয়েছিল। এখন সেই প্রকল্পে আরও গতি আনার চেষ্টা চলছে বলে কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি। এছাড়াও জাতীয় শিক্ষা নীতি এবং পঞ্চায়েত দপ্তরের একাধিক পাইলট প্রকল্প, যা এতদিন পশ্চিমবঙ্গে পূর্ণমাত্রায় কার্যকর হয়নি, সেগুলিও পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি সরকার গঠনের পর কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা বাড়লে রাজ্যে অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নে বড়সড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যদিও বিরোধীদের একাংশের দাবি, উন্নয়নের আড়ালে কেন্দ্র রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে কেন্দ্র-রাজ্যের এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে এমন সম্ভাবনাও খারিজ করে দেওয়া যায় না।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement