shono
Advertisement
Taratala Disaster

থ্যাঁতলানো মুখ, বাঁ হাতের কাটা আঙুল দেখেই তারাতলায় শ্রমিকের দেহ শনাক্ত, হাউহাউ কান্না স্ত্রীর

তারাতলা বিপর্যয়ের দিন দুই পর এসএসকেএমের মর্গে চিহ্নিত সুমন কর্মকার নামে শ্রমিকের দেহ।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 05:46 PM Jun 26, 2026Updated: 07:15 PM Jun 26, 2026

‘ডাল-ভাত রান্না হয়েছে, এবার খেয়েদেয়েই কাজে লাগব। বাবুদের দিকে খেয়াল রেখো।’ স্ত্রীকে শেষবার ফোনে এই কথাগুলোই বলেছিলেন সুমন কর্মকার। ডাল-ভাত খাওয়া আর হয়েছে কিনা, জানা নেই। কিন্তু বুধবার তারাতলায় নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবন ভেঙে পড়ার পর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সুমনের ক্ষতবিক্ষত দেহের হদিশ মিলল অবশেষে। শুক্রবার দুপুরে এসএসকেএম হাসপাতালের মর্গে মিলেছে ক্ষতবিক্ষত দেহ। বাঁ হাতের কাটা আঙুল দেখে দেহ শনাক্ত করলেন শ্যামনগরের বাসিন্দা সুমন কর্মকারের ভাই সুজন। আর তা বোঝামাত্র থ্যাঁতলানো মুখ, ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখে ডুকরে কেঁদে উঠলেন সুমনের স্ত্রী শিখা।

Advertisement

স্বামীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই হাউহাউ কান্না স্ত্রী শিখার। নিজস্ব ছবি

সুমন কর্মকারের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ‘‘দুটো ছোট ছোট সন্তান। কীভাবে চলবে সংসার? কোনও দোষ না করেই অকালে চলে গেল ছেলেটা...।’ ভাই সুজনের কথায়, ‘‘দাদাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ফোনটাও বন্ধ ছিল। অবশেষে হাসপাতালে আসি। গতকাল (বৃহস্পতিবার) গিয়ে দেহটা দেখে বুঝতে পারিনি। আজ বাম হাতের আঙুলে একটা কাটা দাগ দেখে দাদাকে চিনতে পেরেছি।’’

শ্যামনগরের সুমন দিনমজুর। ৪০ বছরের ওই ব্যক্তির দুই সন্তান। একজনের বয়স ১০, আর একজনের মাত্র দেড় বছর। বাড়িতে স্ত্রী, সন্তান, বাবা, মা, ভাই। সুমনের ভাই সুজন একটি সাইকেল গ্যারাজে কাজ করেন। আর বিভিন্ন নির্মীয়মাণ ইমারতে ঢালাইয়ের কাজ করে সংসার চালাতেন সুমনই। মঙ্গলবার রাতে ঢালাইয়ের কাজের জন্য তিনি পৌঁছন তারাতলার ওই ঘটনাস্থলে। বুধবার প্রথম কাজের দিনেই বিল্ডিংটি ভেঙে পড়ে ধ্বংসস্তূপে আটকে যান সুমন। দু'দিন ধরে তাঁর কোনও খোঁজ ছিল না। ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর আহত, মৃতদেহ উদ্ধারের পর এসএসকেএমে নিয়ে আসা হয়। প্রথমে সুমনের দেহ চিহ্নিত করা যায়নি। তাঁর মুখ একেবারে থেঁতলে গিয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার ফের পরিবারের সদস্যরা ভালো করে দেখতে গিয়ে ভাই সুজনের নজরে পড়ে, মৃতদেহের বাঁ হাতের আঙুল কাটা! তাতেই তিনি বুঝতে পারেন, এ যে তাঁরই দাদা সুমন!

মৃত সুমনের ভাই সুজনই দাদার দেহ শনাক্ত করেন। নিজস্ব ছবি

সুমন কর্মকারের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ‘‘দুটো ছোট ছোট সন্তান। কীভাবে চলবে সংসার? কোনও দোষ না করেই অকালে চলে গেল ছেলেটা...।’’ ভাই সুজনের কথায়, ‘‘দাদাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ফোনটাও বন্ধ ছিল। অবশেষে হাসপাতালে আসি। গতকাল (বৃহস্পতিবার) গিয়ে দেহটা দেখে বুঝতে পারিনি। আজ বাম হাতের আঙুলে একটা কাটা দাগ দেখে দাদাকে চিনতে পেরেছি।’’ স্বামী আর নেই - এই চরম সত্য উদ্ঘাটিত হওয়ার পর কান্না আর বাঁধ মানছে না সুমনের স্ত্রী শিখার। হাউহাউ করে কাঁদছেন তিনি। পরিবার চালানো সদস্যের এই অকালমৃত্যুত কী হবে, কীভাবে বাকিরা বাঁচবেন - এসব ভেবে দুশ্চিন্তায় পুরো পরিবার।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement