ভরদুপুরেই যেন ঘনাল সন্ধ্যায়। আচমকা আকাশ কালো করে বৃষ্টি। সঙ্গে মুহুর্মুহু বজ্রপাত। কমে যায় দৃশ্যমানতা। দুর্যোগে যেন আরও বিপর্যস্ত তারাতলা। বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের ফলে ব্যাহত হয় উদ্ধারকাজ। এদিকে, হাওয়া অফিস জানিয়েছে, একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা ঝাড়খণ্ড হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার উপরে বিস্তৃত। তার জেরে সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে বলেও জানানো হয়েছে। তার ফলে ক্রমশ বাড়ছে শঙ্কা।
ভরদুপুরে আঁধার তারাতলায়। ছবি: সুখময় সেন
বুধবার বেলা ১২টা ৭ মিনিটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তারাতলার কারখানা (Taratala Factory Collapse)। সেই সময় আনুমানিক ৪০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলেই দাবি। তড়িঘড়ি শুরু হয় উদ্ধারকাজ। পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনারা উদ্ধারকাজে হাত লাগায়। খবর পাওয়ামাত্রই অগ্নিমিত্রা পাল, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল খাঁ-সহ একের পর এক মন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছন। সেই সময় ফোনে প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিকেলের দিকে ঘটনাস্থলেও যান তিনি। এরপর সন্ধ্যায় এসএসকেএম হাসপাতালেও যান। আহতদের সঙ্গে দেখা করেন। রাতভর উদ্ধারকাজ চলবে বলেই সাফ নির্দেশ দেন তিনি। সেইমতো মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের নজরদারিতে রাতভর চলে উদ্ধারকাজ।
এদিন সকালেও উদ্ধারকাজে কোনও ছেদ পড়েনি। মোট দশটি জায়গায় ভার্টিকাল ড্রিলের মাধ্যমে চলে উদ্ধারকাজ। আটকে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করা হয়। তবে দুপুর ১টা নাগাদ আচমকা আকাশ কলো করে আসে। ভরদুপুরেই নামে অন্ধকার। শুরু হয় অঝোরধারায় বৃষ্টি। সঙ্গে বজ্রপাত। তার ফলে থমকে যায় উদ্ধারকাজ। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৯ জন। নিহতদের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের চিকিৎসায় ১ লক্ষ টাকা দেবে রাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রীও এদিন আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন।
