গিরিশ পার্ক কাণ্ডে গ্রেপ্তার আরও ৫। ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে বিজেপি ও তৃণমূল উভয় পক্ষের তরফেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, এই ঘটনায় আহত পুলিশকর্মীদের মধ্যে ৬ জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ২ পুলিশ অফিসার এখনও চিকিৎসাধীন।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে। একদিকে যখন ব্রিগেডের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বক্তব্য রাখবেন, ঠিক তখনই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলকাতা। ব্রিগেডে মোদির সভায় যোগ দিতে বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে বিজেপি কর্মীরা কলকাতায় এসেছিলেন। অভিযোগ, গিরিশ পার্কে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার (Shashi Panja Attacked) বাড়ির সামনে থাকা ‘বয়কট বিজেপি’ ব্যানার ছিড়ে ফেলেন বিজেপি কর্মীরা। আর তা থেকেই অশান্তি ব্যাপক আকার নেয়।
শুধু তাই নয়, শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে চলে ইটবৃষ্টি। ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলেন মন্ত্রী। ইটের আঘাতে তিনিও আহত হন। শশী পাঁজার অভিযোগ, "বহিরাগতদের নিয়ে ব্রিগেডে সভা করছে বিজেপি। আর এই বহিরাগতরাই বাস থেকে নেমে আমার বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড ছিড়ে পালিয়ে গিয়েছে। কেন? সাহস থাকলে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মোকাবিলা করুক। এত কাপুরুষ যে মেন রাস্তার উপর আমার বাড়ির ঢোকার মুখে ওরা ভাঙচুর করেছে। ইট ছুড়েছে, আমার বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে গিয়েছে। আমার গায়ে লেগেছে, আমাকে খুনের ষড়যন্ত্র করছে ওরা।”
এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসে কলকাতা পুলিশ। প্রথমে গিরিশ পার্ক থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্তে নামে। বিএনএসের একাধিক ধারা যেমন খুনের চেষ্টা, সরকারি কর্মীদের মারধর, দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা, ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাঙচুর, বেআইনি জমায়েত-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ৪ অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে থানায় অভিযোগ জানায় তৃণমূল ও বিজেপি উভয়পক্ষ। তারপরই আরও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
